Beta

মাহফুজা হত্যাকাণ্ড

স্বপ্না ও রেশমার খোঁজে মাঠে পুলিশ

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:৪৬

নিজস্ব সংবাদদাতা
ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী নিজ বাসায় খুন হন। ছবি : সংগৃহীত

নিজ বাসায় গতকাল রোববার বিকেলে খুন হন ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীন। যদিও বিষয়টি জানাজানি হয় রাতে। ঘটনার পর থেকে ওই বাসার দুই গৃহকর্মী পলাতক। তাদের পাওয়া গেলেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মূল রহস্য জানা যাবে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মাহফুজা চৌধুরীর বাসায় তিনজন গৃহকর্মী কাজ করত। তাদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব নারীটি বাসায় আছেন।

পুলিশের ধারণা, মাহফুজা চৌধুরীকে খুন করে পলাতক দুই গৃহকর্মী বাসার আলমারি থেকে মোটা অংকের টাকা, গহনা ও দামি জিনিসপত্র নিয়ে গা ডাকা দিয়েছে। তাই এই দুজনকে গ্রেপ্তার করা গেলেই এই হত্যার মূল রহস্য জানা যাবে।

মাহফুজা চৌধুরীর খুনের পর তাঁর বাসা থেকে পলাতক দুই গৃহকর্মী হলেন- স্বপ্না ও রেশমা। স্বপ্নার বয়স আনুমানিক ৩৬, রেশমার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। স্বপ্নার বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও রেশমার বাড়ি কিশোরগঞ্জে।

আজ সোমবার বিকেলে নিউ মার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমাদের একাধিক টিম এখনও মাঠে আছে গৃহকর্মী স্বপ্না ও রেশমাকে ধরতে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে পারিনি। আমাদের মাঠে থাকা টিমগুলো আসলে তখন বলতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘স্বপ্না ও রেশমাকে ধরতে আমরা সর্বাত্বক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি দ্রুত তারা আইনের আওতায় আসবে। তাদের ধরা গেলেই এই হত্যার আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।’

অন্যদিকে সোমবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপির) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার গণমাধ্যমকে একই কথা জানান। তিনি বলেন, ‘পলাতক দুই গৃহকর্মীকে আটকের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। ঘটনার পর বিকেল পাঁচটার দিকে তারা পালিয়ে যায় এরপরই তাদের ধরার জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

মাহফুজা চৌধুরী ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। তাঁর স্বামী ইসমত কাদির গামা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। সুকন্যা টাওয়ারের ১৫ ও ১৬ তলায় দুটি ফ্ল্যাটে (ডুপ্লেক্স) এই দম্পতির বহুদিনের সংসার। ওপরের অংশটিতে তারা থাকেন। নিচতলায় রান্নাঘর, গৃহকর্মীদের আবাস।

গতকাল পুলিশ গিয়ে মাহফুজা চৌধুরীকে ১৬ তলায় তার বিছানায় মৃত অবস্থায় পায়। ওই সময় তার মুখে বালিশচাপা দেয়া ছিল। যে বিছানায় তাকে পাওয়া যায় সেখানে ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘুমন্ত অবস্থায় মুখে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর দুই গৃহপরিচারিকা আলমারি থেকে টাকা, গহনা ও মূল্যবান কিছু নিয়ে গেছে।

মাহফুজা চৌধুরীর স্বামী ইসমত কাদির গামা গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ১৬ তলার দরজা দিয়ে বাসায় ঢুকতে গিয়ে দেখেন ভেতর থেকে বন্ধ। পরে নিচে নেমে অনেক ডাকাডাকির পর বৃদ্ধা গৃহকর্মী দরজা খুলে দেন। বাসায় ঢুকে খাটের ওপর স্ত্রীকে শুয়ে থাকতে দেখেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখি তার (মাহফুজা চৌধুরীর) পা খাট থেকে ঝুলে আছে। পরে ঘটনা বুঝতে পারি। ঘরের আলমারি খোলা দেখতে পাই। আলমারিতে বেশ বড় অংকের টাকা ছিল সেগুলো নিয়ে গেছে। আর পালিয়ে যাওয়া গৃহকর্মীদের ছবি তোলা হয়েছিল একটি মোবাইলে, সেই মোবাইলটাও নিয়ে গেছে।’

বাসায় থাকা গৃহকর্মীর বরাত দিয়ে গামা বলেন, ‘আমরা আছি, তুমি ঘুমাও- গৃহকর্মী স্বপ্না আর রেশমার এই কথায় তিনি (বৃদ্ধা গৃহকর্মী) ১৫ তলার একটি ঘরে ঘুমিয়েছিলেন।’

Advertisement