হাওরে বাঁধে অনিয়ম : ইউএনও পাউবো কর্মকর্তাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে কৃষকের মামলা

সুনামগঞ্জ হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে শাল্লার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পাউবো কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি, সদস্য সচিবসহ, ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন এক কৃষক।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কৃষক পতাকিরঞ্জন দাস বাদী হয়ে শাল্লা উপজেলার সাবেক ইউএনও এসএম তারেক, পাউবো শাখা কর্মকর্তা রিপন আলীসহ ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিবসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈন উদ্দিন। পরে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আদেশের জন্য রাখেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, আসামিরা শাল্লা উপজেলার ১০টি পিআইসির সভাপতি ও সদস্য সচিব। কাবিটা নীতিমালা স্থানীয় জনগণকে স্কিম বাস্তবায়নের সাথে জড়িত করার লক্ষ্যে পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) এর মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। নীতিমালায় আরও উল্লেখ আছে, হাওর এলাকায় বাঁধের নিকটবর্তী জমির মালিক ও উপকারভোগীদের সম্পৃক্ত করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করে প্রকল্প কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিব আবশ্যিকভাবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন করবেন। গঠিত পিআইসিগুলো ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করে আবশ্যিকভাবে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।
কিন্তু উল্লিখিত অনেক পিআইসির সভাপতি ও সদস্য সচিব সংশ্লিষ্ট বাঁধের পার্শ্ববর্তী জমির মালিক নয় এমনকি উপকারভোগীও নয়। নীতিমালায় থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট উল্লিখিত সকল বাঁধের নিকটবর্তী জমির মালিকদেরকে অজ্ঞাত কারণে কোনো কমিটিতেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। উপজেলা কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মতামত না নিয়ে সকল আসামিরা একে অপরের যোগসাজশে নীতিমালা বহির্ভূত ও বেআইনিভাবে পিআইসিগুলো অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে পিআইসি গঠন করে সম্পূর্ণ বাঁধের কাজ না করে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মামলার বাদী পতাকিরঞ্জন দাস বলেন, হাওরে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতির কারণে প্রতিবছর কৃষকের একমাত্র বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। তারপরও প্রশাসন ও পিআইসির লোকজন নীতিমালা বহির্ভূতভাবে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বাঁধের কাজ করে। এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ না করতে পারায় ফসল ঝুঁকিতে থাকে। তাই এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। আশা করি দ্রুত বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।