যে শহরে চলবে না গাড়ি!

পৃথিবীর সব বড় শহরই কমবেশি যানজট সমস্যায় ভুগে থাকে। আর এই দুর্ভোগ কমাতেই কি না, যদি কোনো শহরে গাড়ি চালানো বেআইনি ঘোষণা করা হয়, তাহলে কেমন হবে? বিস্ময়কর এই পদক্ষেপ নিয়েছে নরওয়ের রাজধানী অসলোর হর্তাকর্তারা। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংবাদ ওয়েবসাইট নিউজ ডটকমে প্রকাশিত এক খবরে এমন জানা যায়।
স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশটির রাজধানীতে সদ্য নির্বাচিত হয়ে এসেছে বামপন্থী দল গ্রিন পার্টি। তাদের মুখপাত্র ল্যান মেরি বার্গ রুইটারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ২০২০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা। এ লক্ষ্য পূরণেরই প্রথম ধাপ হিসেবে আমরা অসলোতে গাড়ি চলাচল বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছি।’
২০১৯ সাল নাগাদ এই ঘোষণা কার্যকর হবে বলে জানা যায়। এরই মধ্যে শহরে অন্তত ৬০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হবে সাইকেলচালকদের জন্য। এ ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ হলেও পাবলিক বাস বা ট্রামের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। ফলে নাগরিকদের যাতায়াতে কোনো সমস্যা হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। এ ছাড়া পঙ্গু ব্যক্তিদের জন্য এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে।
আপাতদৃষ্টিতে অদ্ভুত মনে হলেও এই নতুন ঘোষণা বিশেষ অসুবিধা সৃষ্টি করবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। গত বছর চালিত এক জরিপে দেখা যায়, ২৫ শতাংশ নরওয়েজীয় সাইকেল চালিয়ে অথবা হেঁটে কর্মক্ষেত্রে যান।
‘ট্রান্সপোর্টেশন অলটারনেটিভ’-এর প্রধান পল হোয়াইট বলেন, ‘একটি গাড়ি পার্ক করতে যে পরিমাণ স্থান লাগে, সেখানে ১৫টি সাইকেল পার্ক করা যায়। নিঃসন্দেহে শহরে গাড়ি নিষিদ্ধ করা একটি ভালো উদ্যোগ।’
পরিবেশবান্ধব নীতির জন্য বরাবরই নরওয়ে প্রশংসিত হয়ে এসেছে। রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিষিদ্ধ করার এ ঘোষণা সে ক্ষেত্রে আরো প্রশংসা কুড়িয়ে আনবে উত্তর ইউরোপের দেশটির জন্য।