Beta

অভিমত

২৬ প্রাণ বাঁচানো পারভেজ

০৮ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:০০

রাশেদুল ইসলাম ইমন

‘মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না ও বন্ধু’ গানের এই লাইন গুলোর সাথে কমবেশি আমরা সবাই পরিচিত। কিন্তু গানটির প্রতিটা লাইন মানবতাঁর কথা বলছে। চোখের সামনে ঝরে যাওয়া একটি প্রাণকে বাঁচানোর বিন্দু পরিমাণ চেষ্টা আমরা করি না। এমন ঘটনা  হর হামেশাই ঘটছে আমাদের সমাজে। তবে এর ব্যতিক্রম যে নেই তা ঠিক নয়। অনেকেই আছেন নিজের জীবনকে বাজি রেখে মানুষের জন্য কাজ করেন, সমাজের জন্য কাজ করেন, দেশের জন্য কাজ করেন। ঠিক তেমনি একজন মানুষ পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ। ভুলে গেছেন তাঁর কথা? হ্যা ভুলে যেতেই পারেন। আমরা তাঁকে ভুলে গেলেও ভুলে যাননি তাঁর প্রচেষ্টায় বেঁচে ফেরা সেই ২৬ জন মানুষ।

যে ঘটনায় ছয় মাসের বাচ্চাকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন পারভেজ। গত বছরের ২৭ জুলাই শুক্রবার ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার গৌরীপুরে মতলবগামী ‘মতলব এক্সপ্রেস’ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি ডোবায় পড়ে যায়। বাসটিতে যাত্রী সংখ্যা ছিল ৩০-৩৫ জন। ওই এলাকার মানুষ যখন ভিডিও আর চোখে দেখা নিয়ে ব্যস্ত ঠিক তখনি দাউদকান্দি হাইওয়ের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ খবর পেয়ে ছুটে যান সেখানে। মুক্তিযোদ্ধা বাবার সন্তান পারভেজ একবারের জন্য দেরি করেননি। ঝাঁপিয়ে পড়েন সেই পচা ডোবার মধ্যে, বাঁচিয়ে নিয়ে আসেন ২৬টি প্রাণ। গাড়িতে আটকাপড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন। উদ্ধারের সময় পারভেজ নিজেও বুকে ও হাতে ব্যথা পান। তাঁর এই জীবন বাঁচানোর সফল লড়াইয়ে সারা দেশের মানুষসহ পুলিশ বাহিনীর সকল সদস্য গৌরববোধ করেন। যে পুলিশের নামে দুর্নাম ছাড়া কিছুই বলতে পারতেন জনগণ সেই পুলিশের এমন কৃতিত্ব পুলিশ বাহিনীর মুখ উজ্জ্বল করেন পারভেজ। আর তখনি তাঁকে নানাভাবে পুরস্কৃত করেন। এমন বীরত্বর ফল স্বরূপ তাঁকে সরকারিভাবেও অনেক অভিনন্দন জানান। তবে এবার সরকারিভাবে কনস্টেবল পারভেজ পাচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক “বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)”। পদকটি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রদান করা হয়। এ বছর পুলিশ সপ্তাহে তাঁর হাতে বিপিএম পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কনস্টবল মো. পারভেজ মিয়ার বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার হোসেনদি গ্রামে। তিনি নোয়াখালী পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার হতে ৪২তম ব্যাচে প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন।

লেখক : শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা বিভাগ, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

Advertisement