Beta

চাকরিতে এমবিএ ডিগ্রি কতটুকু দরকার?

২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:১৮

এস এম আরিফুজ্জামান আরিফ

অষ্টাদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে মানুষ যখন চিন্তা করল যে, ব্যবসায়ীক সমস্যাকে কীভাবে মুনাফায় রূপান্তর করে সমাধান করা যায়। সেই থেকে ব্যবসায়ীক চিন্তা ও ধরন পরিবর্তিত হয়। ওই সময়ে ব্যবসাগুলো দিনদিন বড় হচ্ছিল, নতুন নতুন সমস্যার আবির্ভাব হচ্ছিল। তখন ব্যবসায়ীদের মাথায় চিন্তা এলো কীভাবে ভালোভাবে ব্যবসা করা যায়, এমন চিন্তা থেকে বিজনেস স্কুল যাত্রা শুরু হয়। কারণ সাধারণ পড়ালেখা দিয়ে ব্যবসায়ী সমস্যাগুলো সমাধান করা যাচ্ছিল না।

প্রথম দিকে বিজনেস স্কুলগুলো এমবিএ দিত, যেখানে যোগ্য ও উচ্চপদস্থ একজন ব্যক্তি একটা পর্যায়ে গিয়ে এমবি ডিগ্রি অর্জন করে। তারপর প্রতিষ্ঠানকে সামনে এগিয়ে নেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো দেখল এমবিএ ডিগ্রিধারীরা খুব ব্যয় বহুল। তাই তারা জোর দিল বিবিএ করতে হবে। বিবিএতে কিছু বেসিক জিনিস শিখানো হয়, যা দিয়ে মোটামুটি স্বাভাবিক কাজগুলো হয়ে যায়। আগে বেশি টাকা খরচ করে একটি প্রতিষ্ঠান এমবি ডিগ্রিধারী ব্যক্তিদের নিয়োগ দিত। কিন্তু এখন বিবিএ শেষ করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিচ্ছে। সোজা কথা বলতে গেলে, বিবিএতে প্রাথমিক জ্ঞান থাকে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে আর এমবিএ বিশদ তথ্য ও জ্ঞানের শাখা।

এমবি একটি প্রোফেশনাল ডিগ্রি।বিশ্বের ভালো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দুই থেকে তিন বছরের প্রোফেশনাল অভিজ্ঞতা ছাড়া এমবিএ করার সুযোগ দেয় না। একজন ব্যক্তি একটা প্রোফেশনে কয়েক বছর কাজ করার পর যখন বুঝতে পারবে আরো বেশি নলেজ অর্জন করা দরকার বা প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে তখন সে একটি এমবিএ ডিগ্রি নিতে পারে। আর যে বিবিএ করে চাকরি করে এরপর এমবিএ ডিগ্রি নিচ্ছে সে খুব দ্রুত ক্যারিয়ারে উপরে উঠে যায়।

এমবিএ ডিগ্রি সিএ বা আইসিএমএ ডিগ্রি থেকে আলাদা। যারা সিএ বা আইসিএমএ ডিগ্রি নিচ্ছে তারা অ্যাকাউন্টন্স বা অডিট সেক্টরে থাকছে। তারা কিন্তু ব্যবসা পরিচালনায় সরসরি আসার কথা না, কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় সিএ করা ব্যক্তিরা প্রতিষ্ঠানের লিডিং পর্যায়ে রয়েছে, এ সংখ্যাটা কম। এমবিএ হোল্ডাররা অ্যাকাউন্টন্স পরিচালনা করে না কিন্তু অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে কাজের দিক-নির্দেশনা দেন। আর কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি কেউ ডিরেক্টর বা সিইও হতে চায় সেক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং, ফিন্যান্স বা এইচআরএমের এর উপর এমবি ডিগ্রি যুগউপযোগী সিদ্ধান্ত।

চাকরির থেকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি যোগ্য এমবিএ হোল্ডার তৈরির লক্ষ্যে। কারণ আমরা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার চাকরির জন্য এক লাখ সিভি পাই, কিন্তু এক লাখ টাকার চাকরির জন্য তেমন ভালো সিভি পাই না। তো এ চিত্র থেকে বুঝা যায়, আমরা যোগ্য এমবিএ হোল্ডার তৈরি করতে পারছি না।

মোটা দাগে বলতে গেলে, কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট বলা যায় এ বিষয়ে। দ্রুত চাকরির সুযোগ করে দেয় এমবিএ ডিগ্রি। শুধু তাই নয়, অন্যদের তুলনায় বেশি বেতনের চাকরি পেতে সহায়তা করে। যাদের আগে থেকে নিজেই নিজের বস হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তাদের স্বপ্ন আরো প্রখর করে তোলে এমবিএ। উদ্যোক্তা বা বস হওয়ার এটাই উত্তম উপায়। করপোরেট দুনিয়ায় সবচেয়ে ভালো ক্যারিয়ারের সুযোগ দেয় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো। নামিদামি বিশ্বসেরা কোম্পানিগুলোতে এমবিএ মানেই হলো একধাপ এগিয়ে থাকলেন আপনি। আর এমবিএ সারা বিশ্বের স্বীকৃত একটি ডিগ্রি। প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে এ ডিগ্রিতে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান, বিজনেস স্কুল, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

Advertisement