আন্তর্জাতিক
জঙ্গি বানানোর কারখানায় বাংলাদেশের নাম কেন?

১
২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ। কদিন পরই নাইন-ইলেভেন বার্ষিকী। শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের যে তিন হাজার পরিবার তাদের আপনজন হারিয়েছে তারা আরো একবার শোকাবহ সেই দিনটির মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সময় Search for International Terrorist Entities (SITE) Institute-এর বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমে একটি খবর প্রকাশিত হয়। খবরের শিরোনাম ‘নাইন-ইলেভেনের বার্ষিকীতে ভিডিও বার্তা দেবেন বিন লাদেন’। এর কিছুদিন পরই SITE-এর পক্ষ থেকে বিন লাদেনের ৩০ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা হাতে পান এফবিআইর দুই কর্মকর্তা। বলা বাহুল্য, তখনো আল-কায়েদার অডিও ভিস্যুয়াল উইং আল শাহাবের পক্ষ থেকে লাদেনের কোনো ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি। এর এক মাস পর ওয়াশিংটন পোস্টের এক রিপোর্টে জানা যায় ‘আল-কায়েদার পক্ষ থেকে প্রচারের পর প্রকাশ করা হবে’ এমন শর্তে এফবিআইয়ের দুই কর্মকর্তাকে লাদেনের দুটি টেপ দিয়েছিলো SITE. ওই টেপ সম্পর্কে বার্তা সংস্থা এপির রিপোর্টে বলা হয়েছে ৩১ মিনিটের ওই ভিডিওতে লাদেনকে মাত্র দুই বার মাথা নাড়িয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। বাকি পুরোটা সময় লাদেনের ভিডিও ‘ফ্রিজ’ মনে হয়েছে। প্রশ্ন হলো আল কায়েদার প্রচারের আগেই কীভাবে লাদেনের টেপ পেল SITE? নাকি বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা ওই টেপগুলোর আসল কারিগর SITE নিজেই?
২
১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫। বরাবরের মতো এবারও নাইন ইলেভেনের বার্ষিকীতে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার হুমকি এসেছে। এবারের হুমকিটি এসেছে আইএস জঙ্গিদের কাছ থেকে। এফবিআই বলছে নাইন ইলেভেন বার্ষিকীতে হামলা চালাবে ‘হোম গ্রোন’ বা স্বদেশি কোনো আইএস জঙ্গি। এফবিআইয়ের সেই ‘দ্বৈব বাণী’ সত্যি হয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে নাইন-ইলেভেনের ঘটনায় নিহত দমকল কর্মীদের এক স্মরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে এফবিআই। স্ট্রিং অপারেশন চালিয়ে আটক করা হয় এক আইএস জঙ্গিকে। জঙ্গিদের অনলাইন দুনিয়ায় তাঁর নাম ‘অস্ট্রেলি উইটনেস’ বা ‘অস-উইটনেস’। এই দুটি নামের টুইটার অ্যাকাউন্টে আইএসের পক্ষে প্রচার প্রপাগাণ্ডা চালাত কুড়ি বছর বয়সী এই অস্ট্রেলীয়-মার্কিন দ্বৈত নাগরিক। যিনি একাধারে অস্ট্রেলিয়ার পার্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় থাকতেন। ইঁদুর মারার বিষ, কাচের গুঁড়ো আর স্প্লিন্টার ব্যবহার করে ঘরে বসেই একটি পাইপ বোমা তৈরি করেছেন তিনি। অনলাইনে আরেক জঙ্গির সাথে যোগাযোগ করে কানসাসের নাইন ইলেভেনের বার্ষিকীতে বোমাটি বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু অনলাইনের সেই দ্বিতীয় জঙ্গিটি ছিলেন এফবিআইয়ের একজন তথ্যদাতা। ধরা পড়েন ‘অস্ট্রেলি উইটনেস’। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি পরে জানা গেল কুড়ি বছর বয়সী এই তরুন মুসলিম কেউ নন। তিনি একজন ইহুদি। তাঁর আসল নাম জশুয়া রায়ান গোল্ডবার্গ। ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী না হয়েও টুইটারে তিনি আইএস জঙ্গিদের হয়ে প্রচারণা চালাতেন। মহানবীর ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশের দায়ে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট ল্যারি পিকারিঙকে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন। প্রশ্ন হলো ইহুদি হয়েও কেন আইএসের কথিত খিলাফতের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন গোল্ডবার্গ? পরের ঘটনা আরো বিস্ময়কর!
জানা গেল গোল্ডবার্গ মোটেও কোনো আইএস অনুরক্ত কেউ নন। মুসলমান বা মুসলিম বিশ্বের প্রতি তীব্র ঘৃণা পোষনকারী এই তরুণ কিছুদিন আগেও স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনিদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে ব্লগ লিখেছেন। পাশাপাশি SITE-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা রিটা কাৎজের তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু জঙ্গি ভেবে এফবিআইয়ের হাতে বোমা তুলে দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। SITE-ও এখন আর তাকে স্বীকার করছে না। কারণ তাহলে হাটে হাড়ি ভেঙে যাবে।
৩
SITE-এর জঙ্গি নির্মাণ বাণিজ্যের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাতটি হেনেছে যুক্তরাষ্ট্রেরই কয়েকটি বিকল্প গণমাধ্যম। মনে আছে নিশ্চয়ই গত বছরের অক্টোবরে মার্কিন সাংবাদিক স্টিভেন জোয়েল সটলফ, জেমস ফলি, ডেভিড হাইনেস ও দুই জাপানি নাগরিককে ভিডিও ক্যামেরার সামনে জবাই করে হত্যা করেছিল আইএস জঙ্গিরা। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ভিডিও প্রচারের সোল এজেন্ট ছিল SITE. এই সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া ভিডিওগুলোই প্রচার হয়েছে ইউরোপ-আমেরিকার সব মূল ধারার গণমাধ্যমে। এখানেও উঠেছে জালিয়াতির অভিযোগ। স্টিভেন সটলফের হত্যার দুই রকম ভিডিও পাওয়া যায় অনলাইনে। যার একটি SITE-এর তৈরি করা ভিডিও। সেই ভিডিও বিশ্লেষণের ভুরি ভুরি প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে ইন্টারনেটে। যার বিস্তারিত বর্ণনা অনেক পাঠকের জন্য স্বস্তিকর হবে না। তাই বর্ণনায় যাচ্ছি না। জঙ্গিদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ না থাকলে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা সে যতই শক্তিশালী হোক, এমন দ্রুত ভিডিও পাওয়া বা তথ্য পাওয়া কি সম্ভব? আর যদি এই সংস্থার সাথে জঙ্গিদের এত নিবিড় যোগাযোগই থাকবে; তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কেন সেই জঙ্গিদের হদিস জানবে না আর কমান্ডো অপারেশন চালিয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের উদ্ধার করবে না; যাদের নিরাপত্তার জন্যই তাদের এই যুদ্ধ!
৪
যুদ্ধ না বলে প্রক্সি ওয়ার বা ছায়া যুদ্ধ শব্দটাই এখানে বেশি কার্যকর।যুক্তরাষ্ট্রের কথিত এই ছায়া যুদ্ধের অন্যতম ছায়াসঙ্গি হলেন সাবেক ইসরাইলি গুপ্তচর রিটা কাৎজ ও তাঁর মালিকানাধীন মার্কিন-ইসরায়েল মদদপুষ্ট প্রতিষ্ঠান SITE, যুক্তরাষ্ট্রের কথিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ এবং SITE-এর বয়স কাল সমান। অর্থাৎ ২০০১ সাল। সেটাই হওয়ার কথা। কারণ বিভিন্ন দেশের ভূখণ্ড দখলের জন্য কথিত এই যুদ্ধের গোড়া থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি প্রোপাগাণ্ডা মেশিনারিজের দরকার ছিল। কখনো জঙ্গি নেতাদের নামে টেপ প্রচার, কখনো জবাই করে মানুষ হত্যার ভিডিও প্রচার। অর্থাৎ বিশ্বজুড়ে শান্তিকামি মানুষের মনে আতঙ্কের অশান্তি সৃষ্টি করাটাই এই সংস্থার অন্যতম কাজ। যা কি না শাখের করাতের মতো দুই দিকেই কাটে। অর্থাৎ আতঙ্ক সৃষ্টির এই মোক্ষম অস্ত্র দিয়ে যেমন বিদেশের মাটিতে দখলদারত্ব চালানো যায়, তেমনি আবার নিজ দেশের মানুষের জনসমর্থনও আদায় করা যায়। যেমন ২০০৪ সালে ভোটের আগের দিন লাদেনের টেপ প্রচার করেই রাতারাতি জনসমর্থন উল্টে দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা নিশ্চিত করেছিলেন জর্জ বুশ। বলাবাহুল্য সেই টেপ প্রচারের পেছনেও রিটা কাৎজের হাত ছিল। কারণ যেকোনো মূল্যে বুশের জয় চাইছিল ইহুদি লবি। আর কে না জানে রিটা কাৎজ মানেই মার্কিন রাজনীতিতে ইহুদি লবির আরেক গোপন অস্ত্র। মজার ব্যাপার হলো সে বছর থেকেই মার্কিন সরকারের অর্থায়নে আরো জোরেশোরে কাজ শুরু করেন রিটা কাৎজ।
১৫ বছর ধরে মার্কিন রাজনীতি তো বটেই বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দখলদারত্বের ক্ষেত্র প্রস্তুতের কাজটাই করে আসছে SITE। তাই রিটা কাৎজের এই ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের নাম যুক্ত হওয়াটা মোটেই কাকতালীয় নয়।
৫
বাংলাদেশে আইএস-এর সাংগঠনিক কোন তৎপরতা নেই। যেমন ছিলো না আল কায়দারও। কিন্তু আলকায়দা, তালেবান, তেহরিক তালেবান কিংবা লস্কর-ই-তৈয়বার মতো জঙ্গিদের যারা জন্ম দিয়েছেন; অন্তরালের সেই কুশীলবরা বরাবরাই বাংলাদেশে সক্রিয় ছিলেন, এখনো আছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশে জঙ্গিবাদের বীজতলা নির্মাণের পেছনের কলকাঠিটা আইএসের হাতে নয় বরং আইএসআইয়ের হাতে। গেল আগস্ট মাসেই আফগানিস্তানে পরপর কয়েকটি জঙ্গি হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানের এই গোয়েন্দা সংস্থাটির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছিলেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি। তিনি বলেছেন, “We hoped for peace, but war is declared against us from Pakistani territory,” যুক্তরাষ্ট্রের কথিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের অন্যতম সহযোদ্ধা পাকিস্তান কীভাবে আল কায়েদাকে মদদ দিয়েছে, কীভাবে তালেবান, তেহরিক-ই-তালেবানের মতো জঙ্গিদের সৃষ্টি করে সন্ত্রাসের মাঠে ছড়িয়ে দিয়েছে, সেই ইতিহাস এখন আর কারো অজানা নয়।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ এখন একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় কার্যকরের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। তাঁদের কারো কারো সাথে পাকিস্তানের এই গোয়েন্দা সংস্থাটির অতীতের সম্পর্ককে ‘আত্মার আত্মীয়’ বললে মোটেই বাড়িয়ে বলা হবে না। যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো ১৯৭১ সালে যেমন বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির জন্মের বিরোধিতা করেছে, তেমনি এখন ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারেরও বিরোধিতা করছে। নানা কৌশলে এই বিচার বানচালের চেষ্টা করছে। এ কথা নিশ্চিত করেই বলা যায় হাসিনা সরকার আজ যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দেয়; তো কাল থেকে জঙ্গিরা সব গা ঢাকা দেবে। মুক্তমনা ব্লগার হত্যা থেমে যাবে, সুফিবাদ ও মানবতাবাদে বিশ্বাসী অহিংস মানুষগুলোকে হত্যা করা বন্ধ হবে, বিদেশিদের ওপর কোনো হুমকি থাকবে না এবং রিটা কাৎজের কথিত জঙ্গি বানানোর কারখানায় বাংলাদেশের নামও পাওয়া যাবে না।
সিরিয়ায় যেমন সব জঙ্গির নিরাপদ ছাতার নাম আইএস। বাংলাদেশে সেটি যুদ্ধাপরাধী তথা জামায়াত শিবির। এই বিষবৃক্ষের শাখা প্রশাখাগুলোই কখনো জেএমবি কখনো হিজবুত তাহরীর কিংবা কখনো হরকাতুল জিহাদ। কারণ জঙ্গিবাদের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়; কট্টরপন্থী কোনো জিহাদি কিংবা হঠাৎ গজিয়ে ওঠা বিপ্লবী কোনো গ্রুপের হাত ধরে দুনিয়ায় ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিস্তার ঘটেনি। বরং অর্থ, অস্ত্র আর প্রশিক্ষণের তেলজল দিয়ে উগ্রপন্থীদের ক্ষুদ্র সামর্থ্যকে দানবীয় করে তোলা হয়েছে; নানা নামে নানা মোড়কে তাদের মাঠে নামানো হয়েছে।
৬
এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে বাংলাদেশ এখনো এমন এক ভূখণ্ড যেখানে খুব সহজেই অন্তরালের এই কুশীলবরা চাইলেই ধর্মের নামে হাজারো তরুণকে উগ্রপন্থার জমিনে ছেড়ে দিতে পারেন। মাদ্রাসা পড়ুয়া, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণদেরও ধর্মের দোহাই দিয়ে ‘ইসলাম গেল গেল’ রব তুলে ভাতৃঘাতী পথে নামিয়ে দিতে পারেন। ‘হেফাজতে ইসলামের ৫ মে আমাদের সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাইয়ে দিয়েছে এবং তারা জানেন এজন্য তাঁদের কখনোই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে না। জঙ্গিদের অন্তত ২০০ মামলা প্রায় একযুগ ধরে ঝুলে আছে বিচার হয়নি। এই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনো কাজের চাইতে কথার ফুলঝুরিই বেশি ফোটায়। বাংলাদেশ সম্ভবত বিশ্বের সেই বিরলতম দেশ যেখানে জঙ্গিদের ঠেকাতে পুলিশকে রাজপথে মোটরবাইকের হাস্যকর মহড়ায় নামতে দেখা যায়। কারণ এই দেশের কর্তা ব্যক্তিরা এখনো মনে করেন নিরাপত্তা মানেই দৃশ্যমান শো ডাউন পুলিশী হম্বিতম্বি আরো কত কী! অথচ আজকের যুগে দৃশ্যমান পুলিশি উপস্থিতি যে মোটেই নিরাপত্তা নয় বরং এটা নিরাপত্তার নামে নিজেদের দুর্বলতাকেই গোটা দুনিয়ার সামনে (এবং জঙ্গিদের সামনেও) প্রকাশ করে দেওয়া- এই উপলব্ধিটা তাঁদের আজও হয়নি। সহসা হবে এমন লক্ষণও নেই।
অথচ এই মুহূর্তেও নানা নামে নানা মোড়কে অনলাইনে ফেসবুকে, টুইটারে সোচ্চার বাংলাদেশের উগ্রপন্থী হাজার হাজার তরুণ। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলো যেন রীতিমতো উগ্রপন্থা বিস্তারের নিরাপদ স্বর্গে পরিণত হয়েছে।
আজ পর্যন্ত এসব অপরাধে পুলিশ কাউকে আটক করেছে এমনটা শোনা যায়নি। তারা ধরেই নিয়েছে ফেসবুকে রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের ছবি বিকৃত করার দায়ে জড়িতদের আটক করাটাই তাঁদের প্রধান কাজ। আমাদের রাজপথে সিসি ক্যামেরা থাকবে কিন্তু সেটির কোনো ছবি পাওয়া যাবে না। অনলাইনে উগ্রপন্থার বিস্তার ঘটবে কিন্তু সেটা দেখার কেউ থাকবে না। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীর ঘোষণা দিয়ে তাদের কর্মী-সমর্থকদের সাথে ভিডিও কনফারেন্স করবে, কিন্তু আমাদের পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট সেটা আমলে নেবে না। চীনের উগ্রপন্থী যু্বক থাইল্যান্ডে বোমা হামলা চালিয়ে আমাদের দেশে এসে লুকিয়ে থাকবে, আমরা সেটা জানতে পারব না। আমি মনে করি এই ‘না’গুলো যত দিন না পর্যন্ত ‘হা’ হচ্ছে তত দিন আমরা বারবার রিটা কাৎজদের ষড়যন্ত্রের বলি হব। কারণ আমাদের অবস্থাটা এখনো ‘আমার সব নিয়ে বসে আছি সর্বনাশের আশায়’ ঠিক এই বাক্যের মতোই।
লেখক : বার্তা সম্পাদক, একাত্তর টেলিভিশন।