মিয়ানমারে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করল সামরিক জান্তা

গত সপ্তাহের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর ত্রাণ ও পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুততর করতে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা।
সেনা-শাসিত স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি ২ এপ্রিল থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। খবর বিবিসির।
এর আগে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল, যাতে ভূমিকম্প দুর্গতদের সহায়তা প্রদান করা যায়। তবে, সেনাবাহিনী প্রথমে এতে রাজি না হলেও, বুধবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়।
মিয়ানমারে গত শুক্রবারের ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুই হাজার ৮৮৬ জনে পৌঁছেছে এবং শত শত মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
ভূমিকম্পের প্রভাব পার্শ্ববর্তী দেশ থাইল্যান্ডেও অনুভূত হয়, যেখানে এখন পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে, মানবিক সহায়তা চলাকালেই মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) রাতে সেনাবাহিনী একটি চীনা রেড ক্রসের ত্রাণবাহী কনভয়ে গুলি চালায়।
সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত তা'আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) দাবি করেছে, সেনারা শান প্রদেশে নয়টি ত্রাণবাহী গাড়ির কনভয়কে মেশিনগান দিয়ে গুলি করে।
এই কনভয়টি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মান্দালয় শহরের দিকে যাচ্ছিল। তবে, এতে কেউ হতাহত হয়নি।
সেনাবাহিনী এই ঘটনার তদন্তের ঘোষণা দিলেও, তারা সরাসরি ত্রাণবাহী গাড়িগুলোর দিকে গুলি চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
সেনাবাহিনীর দাবি, গাড়িগুলো না থামায় ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।
মিয়ানমারের সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘আমরা গাড়িগুলো থামানোর সংকেত দেই, কিন্তু তারা থামেনি। তখন ২০০ মিটার দূর থেকে গুলি চালানো হয়। পরে ১০০ মিটার দূরে আসলে তিনটি ফাঁকা গুলি ছোঁড়া হয়। এরপর কনভয়টি ফিরে যায়।’
চীনের ব্লু স্কাই রেসকিউ টিম জানিয়েছে, তাদের দল নিরাপদ আছে এবং তারা ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার কাজে নিয়োজিত থাকবে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আশা করে ‘মিয়ানমারের সব পক্ষ ত্রাণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেবে।’
এদিকে, আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো এবং বিভিন্ন দেশ ভূমিকম্প দুর্গতদের সহায়তার জন্য ত্রাণ সামগ্রী ও উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে জাতিগত মিলিশিয়া ও গণতন্ত্রপন্থী যোদ্ধারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
ভূমিকম্পের কারণে মিয়ানমারের মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। তবে, সেনাবাহিনী ত্রাণ কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করছে এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে পূর্ব অনুমতি নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠী টিএনএলএ দাবি করেছে, তারা কনভয়ের গতিবিধি সেনাবাহিনীকে আগে থেকেই জানিয়েছিল। তবুও সেনারা গুলি চালিয়েছে।
ত্রাণবাহী কনভয় নয়ংচো শহরে ফিরে গেলেও, তারা মান্দালয়ের পথে যাত্রা অব্যাহত রাখবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।