Beta

শুরু হলো দুদিনব্যাপী জাতীয় কবিতা উৎসব

০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৩ | আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:০৭

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে দুদিনব্যাপী জাতীয় কবিতা উৎসব। ছবি : এনটিভি

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনই জাতীয় কবিতা পরিষদের আয়োজনে উদ্বোধন করা হলো দুদিনব্যাপী জাতীয় কবিতা উৎসব। ‘বাঙালির জয়, কবিতার জয়’ স্লোগানকে ধারণ করে আজ শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন কবি আসাদ চৌধুরী।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মুহাম্মদ সামাদ। এতে বক্তব্য দেন উৎসবের আহ্বায়ক রবিউল হুসাইন, কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাত। উৎসব পরিষদের অন্য নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমন্ত্রিত কবি-সাহিত্যিকরা উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রহমান সুলতান এবং ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কবি রুবী রহমান।

উদ্বোধকের বক্তব্যে জাতীয় কবিতা পরিষদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কবি আসাদ চৌধুরী বিভিন্ন কবিদের কবিতার পঙক্তি এবং তার মর্মার্থ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই, এ এক বিশাল অর্জন। রাজনীতির পাশাপাশি তরুণদের গণজাগরণ মঞ্চ জনগণের ইচ্ছাটাকে তুলে ধরেছিল।’

বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ যুগে যুগে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। সেই প্রতিবাদ, প্রতিরোধের সঙ্গে সব সময় একাত্মতা ঘোষণা করেছেন দেশের কবি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী।

জাতীয় কবিতা পরিষদ তেমনই একটি সংগঠন উল্লেখ করে আসাদ চৌধুরী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, স্বৈরাচারবিরোধী এই প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিকভাবেই বলতে চায়, বাঙালির জয়, কবিতার জয়।’

উৎসব উপলক্ষে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কবিরা এসে উপস্থিত হয়েছেন। মঞ্চে দাঁড়িয়ে উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশে কবিতা পড়ছেন তাঁরা। জাতীয় কবিতা উৎসবের মঞ্চ হয়ে উঠেছে দেশ-বিদেশের হরেক ভাষার মিলনস্থল।

বাংলার প্রাণ, প্রকৃতি কবিতা চর্চার জন্য খুবই উপযুক্ত বলে মন্তব্য অতিথি কবিদের।

তুরস্কের কবি জুনায়েদ সাইদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ খুবই বিনয়ী আর আত্মিক। এই বিনয় আর আত্মিকতা কবিতার জন্য খুবই দরকারি।’

পশ্চিমবঙ্গের কবি সেমন্তী ঘোষ বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলার একটা বড় ভূমিকা আছে। এটার জন্যই লেখা তো হবেই। আর বাঙালি স্বভাবতই কবি।’

পশ্চিমবঙ্গের আরেক কবি সুমন গুণও বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার পারস্পরিক সম্পর্ককে অভূতপূর্ব বলে দাবি করেন। তিনি  বলেন, ‘বাংলা ভাষার প্রতি এখানকার মানুষের সর্বোচ্চ ভালোবাসা আছে। মমতা আছে, আদর আছে। এই আদর, এই মমতা, এই ভালোবাসা পৃথিবীর আর কোনো দেশে নেই।’

অনুষ্ঠানে রবিউল হুসাইন বলেন, কবি শুধু সুদূরের বাসিন্দা নয়, তাঁকেও সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। সেই উদ্দেশ্যে জাতীয় কবিতা পরিষদ কবিতার মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে, এতদিন ধরে সফলভাবে। এতে প্রমাণিত হয় যে, কবিতার প্রয়োজনীয়তা মানুষ, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সব সময়ের জন্যে আছে। কবির হয়তো ছাড়পত্র দরকার কিন্তু কবিতার তা দরকার পড়ে না। কবিতা স্বপ্ন, সংগ্রাম, ভালোবাসা, জীবন ও বাস্তবতার ভাষ্যরূপ দেয়। ধর্ম, জাতি, বর্ণ, শ্রেণি বা গোষ্ঠী মানুষ ও দেশকে যত বিভক্ত করে, তার বিপরীতে সবাইকে শান্তি ও কল্যাণ এবং শ্রেয়বোধ উজ্জীবিত করে। এইখানে কবিতার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। জাতীয় কবিতা পরিষদ সবার সহযোগিতায় সেই লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে কবি মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘বাংলাদেশে আর কোনোদিন যেন মুজিববিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অন্ধকারের শক্তি যেন মাথা তুলতে না পারে—এখন আমাদের সেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার সময়। তাই ৩৩তম জাতীয় কবিতা উৎসবের মর্মবার্তা আমরা ঘোষণা করেছি—বাঙালির জয়, কবিতার জয়।’

এর আগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পটুয়া কামরুল হাসানের সমাধি এবং শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান পরিষদের নেতৃবৃন্দ। জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসব শুরু হয়। এরপর একুশের গান ও উৎসব সংগীত পরিবেশন করেন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

‘শৃঙ্খল মুক্তির জন্য কবিতা’ স্লোগান নিয়ে ৩৩ বছর আগে ১৯৮৭ সালে তৎকালীন স্বৈরাচার সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে কবিদের সম্মিলিত প্রতিবাদ ছিল জাতীয় কবিতা উৎসব। বাংলার কবি, বাংলার কবিতা হাজার বছরের দায়বদ্ধতাকে আরো শাণিত-প্রাণিত করবে এমন প্রত্যাশা কবিদের।

Advertisement