Beta

‘অধ্যাপক মোজাফফরের ত্যাগের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে হবে’

২৪ আগস্ট ২০১৯, ১৯:১২

নিজস্ব প্রতিবেদক
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয় বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মরদেহ। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ছবি : এনটিভি

প্রবীণ রাজনীতিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ন্যাপের সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। সেখানে রাষ্ট্রপতির পক্ষে এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার শেষ শ্রদ্ধা জানান বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের প্রতি।

রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতারা শ্রদ্ধা জানিয়ে অংশ নেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের জানাজায়। তাঁরা জানান, রাজনীতিতে তাঁর ত্যাগের দৃষ্টান্ত সবাইকে অনুসরণ করতে হবে।

আজ শনিবার সকাল ১১টায় মোজাফফর আহমদের মরদেহ আনা হয় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। সেখানে, তাঁর জানাজায় অংশ নেন সরকারের মন্ত্রী, এমপিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

পরে তাঁকে গার্ড অব প্রদান প্রদান করে পুলিশের একটি চৌকস দল।

জানাজা শেষে প্রথমে রাষ্ট্রপতির পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাঁর সামরিক সচিব। পরে মোজাফফর আহমদের মরদেহে শ্রদ্ধা জানান, প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার।

এ সময় মোজাফফর আহমদের রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে স্মৃতিচারনা করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘উনি একটি বিশাল বটবৃক্ষের মতো। তিনি আমাদের ছেড়ে গেলেন। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। রাজনীতিতে তাঁর ত্যাগের দৃষ্টান্ত সবাই অনুসরণ করবেন।’  

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক যে সমর্থন যেটি খুবই জরুরি ছিল; বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থন। এটা আনার জন্য তিনি সর্বজ্ঞ ভূমিকা পালন করেছেন কেবল নয়, জাতিসংঘেও গেছেন।’

সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘মুজাফফর আহমদ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু প্রতিদিন আমাদের মাঝে থাকবেন। তাঁর আদর্শকে সমুন্নত রেখে বাস্তবায়ন করার যে লড়াই, সে লড়াইয়ে ভেতরে আমরা তাঁকে জীবন্ত রাখতে সক্ষম হব।’

সংসদ ভবনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিকের লাশ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে। সেখানে, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক মোজাফফরের ভূমিকা তুলে ধরেন অনেকে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, ‘আজকের বাংলাদেশের যে রাজনীতির দিকভ্রষ্টতা তা থেকে বের হয়ে এসে আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য একটি পথ নির্দেশনা সৃষ্টি করতে হবে। সেটি আমরা করতে পারব যদি আমরা অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের দীর্ঘ বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক জীবন তার দিকে দৃষ্টিপাত করি।’

জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘অধ্যাপক মোজাফফরের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার ছিল। উনি কোনোদিন জনগণের বিপক্ষে দাঁড়াননি এবং কোনো দিন আপস করেননি।’

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মেয়ে আইভি আহমদ বলেন, ‘উনি স্বপ্ন দেখতেন শোষণহীন বাংলাদেশের। উনি কোনোদিন কারো কাছে কিছু চাননি। উনি একেবারেই মোহমুক্ত  ছিলেন, প্রচার বিমুখ ছিলেন।’

আগামীকাল রোববার সকালে কুমিল্লা টাউন হলে তাঁর জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি দেবিদ্বার উপজেলার আহমেদাবাদ গ্রামে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে দাফন করা হবে। ১৯২২ সালে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিবিদ মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন।

Advertisement