ঝিনাইদহে বিনাভোটে জয়ের হিড়িক

ঝিনাইদহে সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলায় দুইজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিনাভোটে নির্বাচিত হতে চলেছেন। অপরদিকে এ দুই ইউনিয়নে মোট ১৭ সদস্য পদপ্রার্থীও জয়ী হতে চলেছেন। এঁরা সবাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
এর মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৩টির মধ্যে ১০টিতেই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এ ইউনিয়নে ভোটের কোনো আমেজও নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভোটাররা।
সদর উপজেলা চতুর্থ ধাপে ভোট হবে আগামী ৭ মে আর কালীগঞ্জ উপজেলায় ভোট হবে তৃতীয় ধাপে আগামী ২৩ এপ্রিল। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি স্থানে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। এরই মাধ্যে সদর উপজেলার ছয়াইল গ্রামে নির্বাচনী সহিংসতায় একজন নিহত হয়েছেন। দোগাছিতে সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ গুলি ছুড়লে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
সদর উপজেলায় মোট ৯টি ইউনিয়ন। আজ সোমবার ছিল এসব ইউনিয়নের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন। এদিন কালীচরণপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এনামুল বিশ্বাস ফেটু, নলডাঙ্গা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইমামুল ইসলাম এবং পদ্মাকর ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোখলেচুর রহমান জানান, এ উপজেলায় পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে একজন ও সদস্য পদে আটজনসহ মোট ৯জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
এর মধ্যে উপজেলার সুরাট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জে এম রশিদুল আলমের বিরুদ্ধে কেউ মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। ফলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছে। এ ছাড়া একই ইউনিয়নের সাধারণ সদস্য পদে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ছবেদ আলী, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মকবুল বিশ্বাস, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মিজানুর রহমানও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
এ ছাড়া সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য পদে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে হরেন্দ্র নাথ, ঘোড়শাল ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে রিতা সিদ্দিক, পদ্মাকর ইউনিয়নে সংরক্ষিত ২ নম্বর ওয়ার্ডে রিনা বেগম, দোগাছি ইউনিয়নে ১ নম্বর ওয়ার্ডে মুক্তার হোসেন এবং ফুরসুন্ধি ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা ২ নম্বর ওয়ার্ডে সুর্বনা রানী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ।
সদর উপজেলা নির্বাচন কমিশন জানান, এখন চেয়ারম্যান পদে আটটি ইউনিয়নে প্রার্থী রয়েছেন ৩৫ জন। আর সাধারণ সদস্য পদে ২৪২ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৩৬ জন প্রার্থী থাকছেন। আগামী ১৮ এপ্রিল এসব ইউনিয়নের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। সেদিন প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব হবে।
এদিকে কালীগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচন হকে তৃতীয় ধাপে আগামী ২৩ এপ্রিল। কয়েকটি ইউনিয়নে ভোট নিয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অপরদিকে ভোটের আনন্দ মাটি হয়ে গেছে উপজেলার জামাল ইউনিয়নে। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যের ১৩টি পদের মধ্যে চেয়ারম্যানসহ ১০টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী নেই। বাকি তিনটি সদস্য পদের জন্য এখানে ভোট হবে।
বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেছেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দিয়ে তাঁকে প্রার্থী হতে দেওয়া হয়নি।
জামাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোদাচ্ছের হোসেনই এখানে একমাত্র চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি বিনা ভোটে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। তিনি হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জামাল ইউনিয়নে শুধু চেয়ারম্যান নয়, ওই ইউনিয়নের ৯ জন সদস্য পদপ্রার্থীও বিনা ভোটে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলার নির্বাচনের রির্টানিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, উপজেলার জামাল ইউনিয়নের সাতটি ওয়ার্ডে একজন করে প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন ২ নম্বর (কামারাইল, গুটিয়ানি ও দুধরাজপুর) ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগকর্মী মো. সাইফুল্লাহ , ৩ নম্বর (উত্তর-গোপালপুর, দক্ষিণ গোপালপুর ও হরদেবপুর) ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি মো. আব্দুল মালেক, ৪ নম্বর (উল্লাহ ও জয়নগর) ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগকর্মী মো. ফসিয়ার রহমান, ৫ নম্বর (কাবিলপুর, খাঞ্জাপুর, বাগডাঙ্গ ও ভাটের-ভাটপাড়া) ওয়ার্ডে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ খাঁন, ৬ নম্বর (নাকোবাড়িয়া, পার-খালপকুলা ও বড়-ডাউটি) ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগকর্মী মো. মোবারক আলী তরফদার, ৭ নম্বর (বাসুদেবপুর ও হুদা-ডাউটি) ওয়ার্ডে মো. ইমদাদুল হক ও ৮ নম্বর (বড়-তালিয়ান) ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগকর্মী মো. শের আলী।
এ ছাড়া জামাল ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা ২ নম্বর ওয়ার্ডে শিউলী এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নূর জাহান বিনা ভোটে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
তবে জামাল ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১ নম্বর ওয়ার্ডে চারজন প্রার্থী রয়েছেন। এঁরা হলেন মমতাজ বেগম, কৃষ্ণা দাস, মোছা. জোসনা বেগম ও ঊষা রানী বিশ্বাস।
কালীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে তৃতীয় ধাপে ৯টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সিমলা-রোকনপুর ও রায়গ্রাম ইউনিয়ন সীমানা নিয়ে জটিলতায় আপাতত নির্বাচন হচ্ছে না। এই নির্বাচনে ৯টি ইউনিয়নের প্রার্থীরা গত ৩১ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এখন চলছে গ্রামে গ্রামে নির্বাচনী প্রচার।