নির্বাচনী সহিংসতায় ৮ গ্রাম পুরুষশূন্য

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ও হামলা মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়ছে আট গ্রাম। নারীরা আতঙ্কের মধ্যে বাড়িঘর পাহারা দিচ্ছেন। ইউনিয়নের মস্তফাপুর, চাপাতলী, আমবাড়ি, সুচিয়ারভাঙ্গা, খাকছড়া, বালিয়া, পর্বতবাগান, জয়ার গ্রামগুলোতে এখন বিরাজ করছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। এলাকার হাটবাজারে উপস্থিতি কমে গেছে। রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা।
গত ৩১ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নে নির্বাচন হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী কুদ্দুস মল্লিক বিদ্রোহী প্রার্থী সোহরাব হোসেন খানকে ৩৫০ ভোটে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিদ্রোহী প্রার্থী সোহরাব খান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাল ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছেন। এর জের ধরেই শুক্রবার দুপুরে দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়। এ সময় সাতজন গুলিবিদ্ধসহ ৩০ জন আহত হয়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গতকাল শনিবার ঢাকায় মারা যান চেয়ারম্যান কুদ্দুস মল্লিকের ভাতিজা জুয়েল মল্লিক। এর পর থেকে এলাকায় দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
শনিবার বিকেলে জুয়েলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আবারও দুই পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় মস্তফাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য শওকত হোসেনসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া আরো ১০ জন আহত হয়েছে। দফায় দফায় চলছে হামলা ও সংঘর্ষ। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে এলাকার সাধারণ মানুষ। দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষের সময় শতাধিক বাড়িতে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
আজ সরেজমিনে মস্তফাপুর, চাপাতলী, আমবাড়ি, সুচিয়ারভাঙ্গা, খাকছড়া, বালিয়া, পর্বতবাগান, জয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। রাস্তাঘাটে লোক চলাচল নেই বললেই চলে।
মস্তফাপুর এলাকার বাসিন্দা মেহেদীসহ অনেকে জানান, নির্বাচনী সহিংসতা ও হামলা মামলার ভয়ে মানুষ এলাকা ছাড়া। পুলিশ কাকে কখন গ্রেপ্তার করে সেই ভয়ে অনেকেই হাটবাজারে আসছেন না। অন্যদিকে যেকোনো সময় হামলার ঘটনাও ঘটতে পারে। এ আশঙ্কা থেকেও কেউ কেউ এলাকার বাইরে চলে গেছেন।
সুচিয়ারভাঙ্গার গৃহবধূ রাত্রি আক্তার জানান, ‘রাতে আমরা ভয়ে থাকি কখন কী হয়। দুর্বৃত্তরা বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট করছে।’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল মোর্শেদ জানান, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পাঁচটি পৃথক মামলা হয়েছে। এতে সব মিলিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে কাউকেই হয়রানি করা হয়নি। পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে। পুলিশ বাদী হয়ে আরো একটি মামলা করবে, সেটি প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।