নৌকায় ভোট দেওয়ায় নির্যাতন

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিপদে পড়েছেন সমর্থকরা। আজ রোববার ভুক্তভোগীরা কালীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পাড়াবর্থা গ্রামের ভুক্তভোগী কালাম সরকার (৩৬), বড়কাউ গ্রামের গিরিশ চন্দ্র মণ্ডল (২২), অধীর চন্দ্র বিশ্বাস (৪০), ভজেন্দ্র চন্দ্র মল্লিক (৫৫), ইমান আলী (৩০), নজরুল ইসলাম, কবির হোসেন (৪০), মারফত আলী (৩৫), কালিকুটি গ্রামের আবদুল বারেক (৫৪), দিলু (৪০), ইকবাল (৩০), ইসকান্দার (৩০), বাসাবাসি গ্রামের রউফ মিয়া (৩৮), সবুজ মিয়া (৩৫) প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, গত ৩১ মার্চ দ্বিতীয় দফায় কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী, তুমলিয়া, বক্তারপুর, জাঙ্গালিয়া, মোক্তারপুর, জামালপুর ও বাহাদুরসাদীর ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন হয়। ওই সাত ইউনিয়নের মধ্যে নাগরী ইউনিয়ন ছাড়া বাকি ছয়টি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। একমাত্র নাগরী ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কাদির মিয়া অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
ওই ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন নাগরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আলী হোসেন। কিন্তু নির্বাচনের পরের দিন থেকে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় তাঁর কর্মী-সমর্থকরা নৌকার কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের নানাভাবে হয়রানি, মারধর, হুমকি ও নাজেহাল করছে।
ভুক্তভোগীরা আরো জানান, নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মিয়ার ভাগ্নে আতিকুরের (৩২) নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নৌকার সমর্থক ও ভোটারদের যেখানে পাচ্ছে সেখানেই তাদের মারধর, হুমকি ও লাঞ্ছিত করছে। এ ব্যাপারে গত ১৫ এপ্রিল ভুক্তভোগী পাড়াবর্থা গ্রামের মৃত আমান উল্লাহর ছেলে কালাম সরকার কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে নাগরী ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবদুল কাদির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা আমার জানা নেই। প্রতিপক্ষ আমাকে ও আমার কর্মী-সমর্থকদের অযথা হয়রানি করার জন্য এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।’