লক্ষ্মীপুরে ৭ কেন্দ্রে ভোট স্থগিত, ৩ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুরের সাতটি ইউনিয়নের নির্বাচন শেষ হয়েছে। ভোটগ্রহণ চলাকালে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারা, জাল ভোট দেওয়া, প্রভাব বিস্তার ও কেন্দ্র দখলের চেষ্টাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে রামগঞ্জে নৌকা প্রতীকের এজেন্টসহ ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃতদের মধ্যে চারজনকে জেল-জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া রামগঞ্জ উপজেলার দুই ইউনিয়নে সাত কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।
সরেজমিনে জানা যায়, রামগঞ্জের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী (ফুটবল) আবুল কাশেম মোল্লার বাড়িতে হামলা করে আ. লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. হোসেন রানা ও প্রতিপক্ষ মেম্বার প্রার্থী সফিকুল ইসলামের লোকজন।
এদিকে, জেলার কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট চলাকালে ফজু মিয়ারহাট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আচরণ বিধি ভঙ্গের দায়ে নৌকা প্রতীকের এজেন্ট মো. সালাউদ্দিনের ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ ছাড়া ভোট গ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন অভিযোগে আলী আহম্মদ হাফিজিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সমরেশ সরকার ও পূর্ব চর কাদিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফয়েজ আহম্মদকে প্রত্যাহার করা হয়।
এর আগে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে চরবসু পাটওয়ারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. সোলায়মান আলীকে প্রত্যাহার করা হয়। এ সময় প্রার্থীর পক্ষে খাবার বিতরণের দায়ে তিন ব্যক্তিকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ইউপি নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রামগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারা, জাল ভোট দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে সাত কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের শেষ দফায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমণীমোহন, কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা, রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা, ভোলাকোট, নোয়াগাঁও, দরবেশপুর ও ভাদুর ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।