ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় ধর্ষণের অভিযোগ!

যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নে এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ওই নারীর স্বামী। উভয়ই অভিযোগ করেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
আজ সোমবার ওই নারীকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ওই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করা বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। গত ৪ জুন ওই ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর ওই নারীর বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ওই নারীর স্বামী বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমার স্ত্রী ভোট দিতে গ্যাছে। ধানের শীষে ভোট দিয়েছে। ভোট দেওয়ার পর আমরা বাড়িতে থাকতে পারছিনে। বাড়িতে এসে ভাঙচুর করছে, লাঠিসোটা নিয়ে ঘুরছে। আজ চারদিন আমরা বাড়ি থেকে পলাতক। বাড়িতে আমাদের উঠতি দিচ্ছে না। গতকাল রাত ১০টার দিকে জাহাঙ্গীর, শামসুর আর নূরহাত আমাকে এসে বলল, তুই বাড়ি যা কোনো সমস্যা হবে না। আমার স্ত্রী তখন শ্বশুরবাড়ি ছিল। ওরে নিয়ে রাত ১০টায় আসি। ওরা এসে আমাকে বাড়িতে রেখে যায়। এরপর হঠাৎ সবুজ এসে আমাকে ডাকে। আমি বের হয়ে ওরে আর পাইনি। এরপর জাহাঙ্গীর এলো, বলল তোরে কেউ ডেকেছে। বললাম, সবুজ ডাকছে। জাহাঙ্গীর বলল, তুই গা ঢাকা দে। আমি গা ঢাকা দিতে যাই। এরপর সেকেন্দার, সবুজ, ভুট্টো আর জাহাঙ্গীর এরা আমাকে বের করে নিয়ে আসে। আরো লোক ছিল পেছনে, এদের আমি চিনতে পারিনি। এরপর এরা ঘরে ঢুকে আমার স্ত্রীকে বের করে নিয়ে আসে। পরে পাটবনে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় ওরা আমাকে ঘরে আটকে রাখে।’
‘ধর্ষণের শিকার’ ওই নারী জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি স্বামীকে নিয়ে ভোট দিতে যান। কিন্তু বাধার মুখে তাঁর স্বামী ভোট দিতে না পারলেও তিনি সুযোগ বুঝে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে যান ও বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে ভোট দেন। বিষয়টি দেখে ফেলায় ওই দিনই তাদের ওপর হামলার চেষ্টা হয়। কিন্তু হামলার আগেই তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। রোববার সন্ধ্যায় তারা বাড়ি ফিরলে ওই ঘটনা ঘটে।
যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মো. ইউসুফ আলী বলেন, ‘নির্যাতিত ওই নারী ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা বলেননি। ধস্তাধস্তির কথা বলেছেন। অনেক সময় ভয় থেকে মেয়েরা এটা গোপন করে যায়। তারপরও আমরা আমাদের নিয়ম অনুযায়ী পুলিশকে জানিয়েছি এবং ধর্ষণের কোনো আলামত আছে কি না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’