শিলংয়ে মানসিক হাসপাতালে সালাহ উদ্দিন
বিএনপির ‘নিখোঁজ’ যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে একটি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদ এ কথা জানিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে সাংবাদিকদের হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে, দেশবাসী সকলের দোয়ায়, আপনাদের দোয়ায় ইনশাআল্লাহ আমার স্বামী বেঁচে আছেন। উনার সাথে আমার কথা হয়েছে ঘণ্টা দুয়েক আগে। ইন্ডিয়ার মেঘালয়ের একটি মানসিক হাসপাতালে, মেন্টাল হসপিটালে উনি আছেন। আমরা দ্রুত উনার ওখানে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
এ সময় সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘আমি দেশবাসীর কাছে আবারো কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, সবার কাছে আবারো দোয়া চাইছি। মিডিয়ার সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আপনারা আমাকে অসম্ভব সাহায্য করেছেন।’urgentPhoto
কেন উনি হাসপাতালে আছেন—সে সম্পর্কে সালাহ উদ্দিন আহমেদ কিছু বলেছেন কি না জানতে চাইলে হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘আমাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফোন করেছিল। ওখান থেকে ফোন করে বলা হয়েছে যে আপনার হাজব্যান্ড সালাহ উদ্দিন সাহেব আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন একটু। এর পরে উনার সাথে আমাকে কথা বলায়ে দিয়েছে। উনি বলেছেন, আমি বেঁচে আছি, তোমাদের সবার দোয়ায়। ইনশাআল্লাহ আমি ভালো আছি। মোটামুটি সুস্থ আছি। তুমি সবাইকে জানিয়ে দাও।’
এ সময় হাসপাতালের নাম হাসিনা জানান, মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের মিমহানস মেন্টাল হসপিটাল।
উনি কীভাবে সেখানে গেছেন, সে বিষয়ে কোনো কথা হয়নি বলেও জানান সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী।
কণ্ঠ শুনেই বুঝতে পেরেছেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীর গলা যদি আমি একশ বছর পরেও শুনি, আমি উনার গলা চিনি।’
কখন সালাহ উদ্দিন আহমেদকে উদ্ধার করতে যাচ্ছেন কিংবা এ ব্যাপারে কারো সাহায্য লাগবে কি না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি দ্রুত চেষ্টা করছি, যত দ্রুত সম্ভব উনার কাছে পৌঁছানোর জন্য। আমার তো ভিসা করানোর জন্য অবশ্যই সরকারের সাহায্য লাগবে।’
‘নিখোঁজ’ হওয়ার ৬৩ দিন পর তাঁর খোঁজ পাওয়ার খবর পাওয়া গেল পরিবারের পক্ষ থেকে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো এ ব্যাপারে কিছু জানে না বলে দাবি করেছে।
দুপুরে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলার পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর গুলশানের বাসভবনে দেখা করেন হাসিনা আহমেদ। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠকের পর দুপুর দেড়টার কিছু পরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
এ ব্যাপারে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মিডিয়া উইংয়ের কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আপনারা যেমন দেখেছেন, আমরাও তেমন দেখেছি। এ বিষয়ে আর কিছুই জানি না। উনি (হাসিনা আহমেদ) বলেছেন, সুতরাং কোথায় আছেন, তা উনিই ভালো জানেন।’
এর আগে গত ১৯ মার্চ গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের দুর্গম চরাঞ্চলে সালাহ উদ্দিন আহমেদের সন্ধান পাওয়ার গুজব উঠেছিল। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কারো সন্ধান পায়নি।
গত ১০ মার্চ থেকে ‘নিখোঁজ ছিলেন’ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তাঁকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তাঁর পরিবার ও দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
তবে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে আটক করা হয়নি বলে দাবি করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
সালাহ উদ্দিন আহমেদের সন্ধান চেয়ে ১১ মার্চ রাতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গুলশান ও উত্তরা পশ্চিম থানায় যান তাঁর স্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদ। তবে কোনো থানাই তাঁর জিডি গ্রহণ করেনি।
সালাহ উদ্দিন আহমেদকে খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকলিপি দেন তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।
রাজধানীর উত্তরার একটি বাড়ি থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ১০ মার্চ—এমন অভিযোগ করে থানা পুলিশের পাশাপাশি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন সালাহ উদ্দিনের পরিবার।
১২ মার্চ হাসিনা আহমেদের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে কেন খুঁজে বের করা হবে না এবং রোববার তাঁকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। গত ২০ এপ্রিল হাইকোর্ট আগামী ছয় মাস সালাহ উদ্দিন আহমদের খোঁজ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন।