Beta

কলারোয়ায় ছাত্রলীগের কমিটি ‘কেনাবেচা’, এক বছরের ব্যবধানে দুই কমিটি

১৯ মে ২০১৯, ২৩:৩৫

কলারোয়া ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত হওয়া কমিটির সভাপতি শেখ সাগর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান নাইস। ছবি : সংগৃহীত

মেয়াদ শেষ না হতেই সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় বারবার ছাত্রলীগের কমিটি গঠন চলছে। গত এক বছরের ব্যবধানেউপজেলায় ছাত্রলীগের দুটি কমিটি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বারবার কমিটি পরিবর্তন করে আসছেন।

জানা গেছে, এর আগে ২০১২ সালের শেখ ইমরান হোসেন ও আবু সাঈদ নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৩/২০১৪ সালে। ফের শেখ ইমরান হোসেন ও আজাদ হোসেন নেতৃত্বাধীন কমিটি আসে ২০১৪ সালে। এ কমিটির আজাদের বিরুদ্ধে হুন্ডির টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। এ কারণে ওই কমিটিও কিছুদিন পর বিলুপ্ত হয়ে যায়। পরে ২০১৬ সালের ইমরান হোসেন ও মেহেদী রাসেল নেতৃত্বাধীন কমিটি বিলুপ্ত হয় ২০১৮ সালে। ২০১৮ সালের শেষ দিকে গঠিত হয় আবু সাঈদ ও সাকিল খান জজ নেতৃত্বাধীন কমিটি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি তাদের কমিটি বিলুপ্ত করে দেয় জেলা কমিটি।

অভিযোগ রয়েছে, এই কমিটি গঠনে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেন। এই কমিটির নেতারা গোয়েন্দা পুলিশ সেজে যুগীবাড়ি এলাকার এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে জিম্মি করে টাকা আদায় করেন। এ নিয়ে মামলা হয়। এ কারণে তাদের কমিটি মাত্র কয়েক মাসেই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এর আগে শেখ ইমারন হোসেন ও মেহেদী রাসেল নেতৃত্বাধীন কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় দুই নেতার বিয়ের কারণে। তবে সাবেক সভাপতি শেখ ইমরান হোসেন বলেন, ‘বিয়ের বিষয় মুখ্য নয়, সাবেক জেলা কমিটি টাকা নিয়ে কমিটি গড়ে। ফের টাকার জন্যই কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠন করে।’ তিনি বলেন, ‘আমার কাছ থেকেও সাবেক জেলা কমিটির নেতারা টাকা নিয়েছিলেন। আরো তিন লাখ টাকা চাইলেও আমি তা দেইনি।’

জানা গেছে, গত বছরের শেষের দিকে সভাপতি আবু সাঈদ ও সম্পাদক সাকিল খান জজ নেতৃত্বাধীন উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও সম্পাদক যথাক্রমে রেজাউল ইসলাম ও সৈয়দ সাদিকুর রহমান ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েক মাস পর সে কমিটিও বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ ছিল।

এরপর ১০ মার্চ গঠন করা হয় শেখ সাগর হোসেন ও মেহেদি হাসান নাইস নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটি। এ কমিটি গঠনে আট লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

গতকাল শনিবার এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাইসের দায়ের কোপে চারটি আঙুল হারান উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জি এম তুষার। ঘটনার দিন শনিবার রাতেই ‘আট লাখ টাকায় কেনা’ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন জেলা সভাপতি ও সম্পাদক।

বারবার টাকা নিয়ে কমিটি কেনাবেচার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম বলেন ‘যেকোনো কমিটি গঠনের সময় সেখানকার আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের মত নিয়ে করা হয়। কারো কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সত্য নয়। আবু সাঈদ-সাকিল খান জজ কমিটির বিরুদ্ধে মাদক সেবন, ডিবি পুলিশ সেজে টাকা আদায়, মাদক কারবারসহ নানা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তা বিলুপ্ত করা হয়।’

এ প্রসঙ্গে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান বলেন, ‘সাঈদ-জজ কমিটি গঠনে কেন্দ্রের চাপ ছিল। সে অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘সদ্য বিলুপ্ত  সাগর-নাইস কমিটি গঠনে উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টুর সুপারিশ ছিল। এ কারণে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের প্রচার চালিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে টাকা নিয়ে আমরা কোনো কমিটি গঠন কিংবা বিলুপ্ত করিনি।’

Advertisement