Beta

ধর্ষণের পর ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দিলেন কনস্টেবল!

২০ মে ২০১৯, ২৩:০২

মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্রী। ইনসেটে প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ কনস্টেবল মোক্তার হোসেন। ছবি : এনটিভি

মাদারীপুর পৌরসভায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর ঘরের ভেন্টিলেটর দিয়ে বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোক্তার হোসেন নামের এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত ওই স্কুলছাত্রীকে রোববার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লাকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ কনস্টেবল মোক্তার হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর পুলিশ লাইনের কনস্টেবল মোক্তার হোসেন দীর্ঘদিন থেকে শহরের টিবি ক্লিনিক সড়কে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। কয়েক দিন আগে মোক্তারের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে চলে যান। এই সুযোগ রোববার রাতে প্রতিবেশী এক স্কুলছাত্রীকে ঘরে ডেকে নেন মোক্তার হোসেন। এ সময় দরজা বন্ধ করে ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে মোক্তার হোসেন ওই স্কুলছাত্রীকে ঘরের ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দেন। এতে ওই মেয়েটি গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ওই ছাত্রী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার ওই স্কুলছাত্রী জানায়, রোববার রাতে সে মোক্তার হোসেনের মেয়েকে ডাকতে গিয়েছিল। ওই সময় মোক্তার তাকে ঘরে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে খারাপ কাজ করেন। পরে স্থানীয়রা টের পেয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিলে মোক্তার তাকে ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দেন। এতে তার পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। এর আগে মোক্তার তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘক্ষণ ঘরের মধ্যে ওই মেয়েকে নিয়ে থাকায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা বাইরে থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলে মোক্তার হোসেন মেয়েটিকে ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দেন। এতে মেয়েটি গুরুতর আহত হয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. লেলিন জানান, মেয়েটির হাড় ভেঙে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সেরে উঠতে কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগবে।

তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মোক্তার হোসেন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমাকে শুধু শুধু স্থানীয়রা ঘরের বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। ওই মেয়ের সঙ্গে আমার কিছু হয়নি।’

আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলে আপনি পুলিশ সুপার বা ওসির সাহায্য নেননি কেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি। এ ঘটনায় দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

Advertisement