অক্ষয়ের ইতিহাস সৃষ্টি, এক বছরে ৭০০ কোটির ক্লাবে

এক বছরে ৫০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করবেন বলিউড তারকারা, সেদিন বুঝি শেষ। এখন ৭০০ কোটি রুপির ক্লাবের নতুন সীমানা তৈরি হলো। আর তার জন্য সকল ধন্যবাদ প্রাপ্য অক্ষয় কুমারের। কীভাবে?
তাহলে জেনে নিন অক্ষয়ের ইতিহাস সৃষ্টির গল্প। ভারতের বিনোদন অঙ্গনে প্রথমবারের মতো আয়ে এক বছরে ৭০০ কোটি রুপি বক্স অফিস হিট দিলেন অক্ষয়।
ইন্ডিয়া টিভির অনলাইন সংস্করণের প্রতিবেদন জানায়, ২০১৯ সালে পরপর চারটি ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন অক্ষয় কুমার—‘কেসারি’, ‘মিশন মঙ্গল’, ‘হাউসফুল ফোর’ ও ‘গুড নিউজ’। আর এ চার ছবি ২০১৯ সালে ভারতের বক্স অফিসে আয় করেছে ৭০০ কোটি রুপির বেশি। এর মধ্য দিয়ে নতুন এক অধ্যায় তৈরি হলো। বাড়ল প্রত্যাশা। ২০২০ সালে যেসব ছবি মুক্তি পাবে, যে তারকাদের ছবি মুক্তি পাবে, তাঁদের ওপর নিশ্চিত চাপ তৈরি হবে। বক্স অফিসে হিটের জন্য শীর্ষ তারকাদের নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করতে হবে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা অক্ষয়ের কৌশলের কৃতিত্ব দিয়েছেন। তাঁদের মত, এ তারকার হিট রেট টপকানো কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়।
বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে চলচ্চিত্র সমালোচক ও বাণিজ্য বিশ্লেষক তারান আদর্শ বলেছেন, ভারতে বিনোদন-ব্যবসা দিন দিন বাড়ছে। এখন অভিনেতারা শুধু ছবির কনটেন্টের (আধেয়) ওপরই জোর দিচ্ছেন না, বক্স অফিসের ওপরও জোর দিচ্ছেন। কনটেন্ট ভালো হতে হবে, কারণ দর্শক সেটা পছন্দ করেন। আর দর্শক পছন্দ করলেই তার প্রভাব পড়বে বক্স অফিসে।
‘অক্ষয় গেল বছর চারটি সিনেমা করেছেন, আর সবগুলো ছবিই ভিন্ন ঘরানার। ভিন্ন বিষয়ের ছবি সবাইকে স্পর্শ করেছে,’ যোগ করেন তারান।
বলিউড হাঙ্গামার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর অক্ষয়ের ছবিগুলো মোট আয় করেছে ৭৩৫.৪২ কোটি রুপি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন হৃতিক রোশান। তাঁর ‘সুপার থার্টি’ ও ‘ওয়ার’ খুব ভালো ব্যবসা করেছে, মোট সংগ্রহ ৪৬৪.৮৫ কোটি রুপি।
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন রিতেশ দেশমুখ। ২০১৯ সালে বক্স অফিসে ‘ধামাল’ সৃষ্টি করেছেন তিনি। তাঁর তিন ছবি ‘টোটাল ধামাল’, ‘হাউসফুল ফোর’ ও ‘মারজাওয়া’ সংগ্রহ করেছে ৩৯৬ কোটি রুপির বেশি। এর পরেই রয়েছেন টাইগার শ্রফ, তাঁর ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার টু’ এবং ‘ওয়ার’ সংগ্রহ করেছে ৩৮৭.০২০ কোটি রুপি।
সুপারস্টার সালমান খান তালিকার পঞ্চমে অবস্থান করছেন। গেল বছর মুক্তি পেয়েছে তাঁর দুটি ছবি ‘ভারত’ ও ‘দাবাং থ্রি’। বক্স অফিসে আয় করেছে ৩৫৬ কোটি রুপির বেশি। এর পরে রয়েছেন আয়ুষ্মান খুরানা, তাঁর ‘আর্টিকেল ফিফটিন’, ‘ড্রিম গার্ল’ ও ‘বালা’ আয় করেছে ৩২৪.৫২০ কোটি রুপি।
২০১৫ সালে ৫০০ কোটির ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন সুপারস্টার সালমান খান। ওই বছর ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ও ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ ব্যাপক ব্যবসা করে। ২০১৮ সালে রণবীর সিং ঢোকেন ওই ক্লাবে, তাঁর ‘পদ্মাবত’ ও ‘সিম্বা’ ব্যাপক ব্যবসা করে বক্স অফিসে।
২০২০ সালে মুক্তির পাইপলাইনে রয়েছে ‘৮৩’, ‘বাঘি থ্রি’, ‘আংরেজি মিডিয়াম’, ‘চেহরে’, ‘রাধে : ইউর মোস্ট ওয়ান্টেড ভাই’, ‘কুলি নাম্বার ওয়ান’ রিমেক, ‘লক্ষ্মী বোম’, ‘শমসেরা’, ‘লাল সিং চাড্ডা’ ও ‘বচ্চন পান্ডে’। চলতি বছর হবে ভিন্ন ধারার, ভিন্ন গল্পের ছবির বছর। আর বিভিন্ন প্রকল্পে এবারও প্রধান সারিতে থাকবেন অক্ষয় কুমার, আমির খান ও সালমান খানের মতো তারকারা। বেশ জমজমাট সংঘর্ষ হবে বক্স অফিসে।