Beta

ভুয়া চেকে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা উধাও

১১ মে ২০১৫, ২২:৪১

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক নেত্রকোনা শাখায় জালিয়াতি করে দুটি চেকে পাঁচ লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার এ ঘটনা ঘটে।
 
জেলা শহরের ছোটবাজারে অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক পান্না লাল কর্মকার জানান, নেত্রকোনা শহরের দক্ষিণ নাগড়া এলাকার ঠিকানার মো. শাহ আলম নামে সঞ্চয়ী হিসাব নং-১৬৪৮৪ ব্যাংকে একটি গ্রাহকের হিসাব রয়েছে।

শাহ আলম রোববার দুপুরের দিকে একটি চেকে দুই লাখ ৮০ হাজার ও বিকেলে অন্য একটি চেকের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা উত্তোলন করেন। অথচ তাঁর হিসাব যাচাই করে মাত্র এক হাজার টাকা পাওয়া যায়। 

ব্যাপারটি বুঝতে পারার পর রোববার রাতেই ব্যাংকের বার্তাবাহক আবদুল মান্নান মুঠোফোনে শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শাহ আলম পরদিন সোমবার সকালে ব্যাংকে আসার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু আজ সোমবার সকাল থেকেই শাহ আলমের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।  

শাহ আলমের হিসাবে এত টাকা না থাকার পরেও কীভাবে এত টাকা উত্তোলন করা হলো সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাখা ব্যবস্থাপক পান্না লাল কর্মকার জানান, নিয়ম অনুযায়ী ক্যাশিয়ারের কাছে চেক যাওয়ার আগে দুজন কর্মকর্তা তা খতিয়ে দেখে চেকে সই করেন। কিন্তু এই দুটি চেকের ক্ষেত্রে দুই কর্মকর্তার ভুয়া সই দিয়ে ক্যাশিয়ারের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা তুলে নিয়ে গেছে। এই হিসাব খোলার সময় বার্তাবাহক আবদুল মান্নান গ্রাহককে শনাক্ত করেছিলেন। তা ছাড়া যে চেকে টাকা উত্তোলন হয়েছে, সেই চেকে ব্যাংকের সিলমোহর রয়েছে। সন্ধ্যার পরে ব্যাংকের হিসাব মেলানোর সময় এই ঘটনা ধরা পড়ে। 

পান্না লাল আরো জানান, ঘটনার সাথে ব্যাংকের কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকলে তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার সারা দিন ব্যাংকের কাজে ময়মনসিংহ ছিলেন জানিয়ে পান্না লাল বলেন, ঘটনা জানার পর বিষয়টি নেত্রকোনা মডেল থানার পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে প্রাথমিক তদন্ত শেষে রাত ১২টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আবদুল মান্নানকে থানায় নিয়ে যায়।

ব্যাংকের দায়িত্বরত ক্যাশিয়ার জহিরুল কবীর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার সইয়ে চেক পাস হওয়ার পর আমি টাকা দিতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে আমারও তাই হয়েছে। দুটি চেকেই ব্যাংক কর্মকর্তার সইগুলো যে জাল ছিল তা বুঝতে পারিনি।’ 

পুলিশ পরে ব্যাংকের বার্তাবাহক আবদুল মান্নানকে থানায় নিয়ে ছেড়ে দেয়। এ ব্যাপারে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদুল আলম জানান, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষই আজ সোমবার দুপুরে মান্নানকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে।

Advertisement