জাতীয় ঈদগায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, এসেছে কিছু পরিবর্তন

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রতিবারের ন্যায় এবারও প্রস্তুত করা হচ্ছে জাতীয় ঈদগাহ। তবে ব্যতিক্রম রয়েছে এবারের আয়োজনে। ভিআইপি গ্যালারিতে রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি এবার স্থান রাখা হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার জন্যও। প্রায় লাখো পুরুষ ও নারী মুসল্লির নিরাপত্তাসহ পুরো আয়োজনে সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করছেন আয়োজকরা।
এরই মধ্যে মাঠে শামিয়ানা টানানোর পাশাপাশি মাইক, ফ্যান, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ২৮ রমজান আয়োজকদের কাছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঈদগাহর সার্বিক ব্যবস্থাপনার কাজ হস্তান্তর করবে বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী ড. মো. জিল্লুর রহমান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও জাতীয় ঈদগাহ প্রায় ৯০ হাজার মুসল্লির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এবার কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে ভিআইপি গ্যালারি বাড়ানো, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পানি খাওয়ার সুবিধা, মোবাইল টয়লেট বৃদ্ধিসহ কিছু ক্ষেত্রে পরিসর বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া অন্য বিষয়গুলো আগের মতোই থাকবে। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এবার ৮৫ হাজার পুরুষ ও পাঁচ হাজার নারীর নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহের জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিচারপতি, কূটনীতিক, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।
ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেয়ারু অ্যান্ড সন্স কাজ করলেও এ বছর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন হয়েছে। দুই লাখ ৬০ হাজার বর্গফুটের জাতীয় ঈদগাহ মাঠ প্রস্তুতের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শন করে দেখা যায়, ময়দানে শামিয়ানা টানানো শেষ হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজও শেষ। কয়েকশ বৈদ্যুতিক পাখা লাগানো হয়েছে। সাজসজ্জার কাজও শেষ। ঈদগাহ এলাকায় নিরাপত্তার জন্য দুটি আলাদা নিয়ন্ত্রণকক্ষও তৈরি করা হয়েছে। ময়দানের মূল ফটকের পাশেই বসানো হয়েছে ১২০টি অজুখানা।

জানা গেছে, দুই সপ্তাহ ধরে ঈদগাহে দিন-রাত পরিশ্রম করে চলেছেন ২০০’র বেশি শ্রমিক। রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টাসহ বিশিষ্টজন ঈদের নামাজ পড়তে আসবেন হাইকোর্টের প্রধান ফটক দিয়ে। সর্বসাধারণের জন্য খোলা থাকবে ঈদগাহ ময়দানের প্রধান ফটক। প্রধান ফটকে নিরাপত্তা তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, ভিআইপিদের জন্য ঈদগাহের ভেতরে প্রায় তিন হাজার বর্গফুট জায়গা আলাদা নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে থাকবে। মাজারের রাস্তাটি নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনে সরকারি কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।