Beta

‘এইচ-টু-ও’ নিয়ে এত কথা হবে বুঝতে পারিনি : অনন্যা

০২ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:২০ | আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:৩৯

ফিচার ডেস্ক
ধানমণ্ডির ‘এইচ-টু-ও’ রেস্তোরাঁয় অনন্যা। ছবি : সংগৃহীত

‘গতকাল ধানমণ্ডির এইচ-টু-ও রেস্টুরেন্ট থেকে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমিও গিয়েছিলাম। রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের সবাই আমাকে সম্মান জানিয়েছেন। বনানীতে তাঁদের রেস্টুরেন্টের শাখা আছে, সেখানেও আমাকে যেতে বলেছেন। আমি হয়তো সেখানেও যাব।’ কথাগুলো এনটিভি অনলাইনকে বলেছেন অনন্যা অনু।

এবারের মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় সেরা দশে ছিলেন তিনি। গ্র্যান্ড ফিনালে ভুল উত্তর দেওয়ায় তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এখন হচ্ছে আলোচনা ও সমালোচনা।

সেদিন বিচারক খালেদ হোসেন সুজন অনন্যাকে প্রশ্ন করেন, ‘এইচ-টু-ও মানে কী?’ উত্তরে অনন্যা বলেছিলেন, ‘এইচ-টু-ও নামে ধানমণ্ডিতে একটি রেস্টুরেন্ট আছে।’

অনন্যার উত্তর শোনার পর থেকে ফেসবুকে চলছে সমালোচনার ঝড়। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনন্যা। বললেন, ‘এইচ-টু-ও নিয়ে এত কথা হবে, বুঝতে পারিনি। প্রথমত, প্রশ্নটা আমি বুঝতে পারিনি। আমাকে যদি বলা হতো কিসের সংকেত? তাহলে হয়তো আমি বুঝতে পারতাম। সঠিক উত্তরও দিতাম। আসলে আমি প্রশ্ন শুনে দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, শ্রদ্ধেয় বিচারক স্যার হয়তো মজা করে প্রশ্নটা করেছেন। মূল প্রশ্ন পরে করবেন। আমি মেনে নিচ্ছি, আমি ভুল উত্তর দিয়েছি। তাই বলে এটা এত ভাইরাল হবে? সবকিছুর তো ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকও থাকে। এ ঘটনারও হচ্ছে। যাঁরা আমাকে ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক কথা বলছেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমার জন্য দোয়া করবেন, যাতে সামনে আরো ভালো কাজ করতে পারি।’

‘এইচ-টু-ও’ রেস্তোরাঁ থেকে আমন্ত্রণ কেন করা হয়েছিল—জানতে চাইলে অনন্যা বলেন, ‘বিশেষ কোনো কারণ নেই। রেস্টুরেন্ট থেকে আমাকে এমনিতেই ডাকা হয়েছিল। এর আগে আমি একদিন মাত্র ওখানে খেতে গিয়েছিলাম। যাই হোক, গতকাল সেখানে খুব ভালো সময় কেটেছে। সবাই আমার সঙ্গে সেলফি তুলেছেন।’

ঢাকা আইডিয়াল কলেজে বাণিজ্য বিভাগে পড়ছেন অনন্যা অনু। উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তিনি। মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় আসার আগে থেকেই মিডিয়ায় তাঁর পথচলা শুরু। তাঁর অভিনীত ‘চাপাবাজ’ ধারাবাহিক নাটকটি বৈশাখী টেলিভিশনে প্রচারিত হচ্ছে। এর আগে ডিএ তায়েব পরিচালিত ‘ডিবি’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন অনন্যার। বললেন, ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ভালো লেগেছে। এ রকম আয়োজন করার জন্য অন্তর শোবিজকে ধন্যবাদ। ঐশীর জন্য শুভকামনা থাকবে। আমি সেরা দশে থেকেই সন্তুষ্ট।’

এবারের ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন পিরোজপুরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। প্রথম রানারআপ নিশাত নাওয়ার সালওয়া এবং নাজিবা বুশরা দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন।

গত রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার বসুন্ধরার কনভেনশন সিটির রাজদর্শন হলে গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয় মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিট থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে এটিএন বাংলা। চলে রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠান যৌথভাবে উপস্থাপনা করেন আজরা মাহমুদ, ডি জে সনিকা ও আরজে নিরব। বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগীতশিল্পী শুভ্র দেব, মডেল ইমি ও সুজন, অভিনেত্রী তারিন ও ব্যারিস্টার ফারাবি।

আইকন বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইলস ব্যান্ডের শাফিন আহমেদ, হামিন আহমেদ এবং নৃত্যশিল্পী আনিসুল হক হিরু।

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার সেরা ১০ জনের মধ্যে ছিলেন শিরিন শিলা, মনজিরা বাশার, নিশাত নাওয়ার সালওয়া, ইশরাত জাহান সাবরিন, স্মিতা টুম্পা বাড়ৈ, আফরিন সুলতানা লাবণী, সুমনা নাথ অনন্যা, নাজিবা বুশরা, জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী ও জান্নাতুল মাওয়া।

এবার ৩০ হাজারের মতো প্রতিযোগী অনলাইনে নাম নিবন্ধন করেছেন বলে জানান প্রতিযোগিতার আয়োজক প্রতিষ্ঠান অন্তর শোবিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী। 

এর মধ্য থেকে আয়োজকরা এক হাজার ২০০ প্রতিযোগীকে বাছাই করেন। তাঁদের মধ্য থেকে বিচারকরা ১০ জন সেরা প্রতিযোগীকে নির্বাচিত করেন এবং তাঁদের মধ্য থেকে সেরা একজনকে বাছাই করা হয়।

গত বছর ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় প্রথম বিজয়ী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় এভ্রিলের। পরে এভ্রিলের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন রাখার অভিযোগ ওঠে। বাদ পড়েন তিনি। এরপর বিচারকদের রায়ে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ নির্বাচিত হন জেসিয়া ইসলাম। চীনের সাংহাই শহরে অনুষ্ঠিত ৬৭তম বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। প্রতিযোগিতার সেরা ৪০-এ ছিলেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ জেসিয়া ইসলাম। কিন্তু সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়েন এই সুন্দরী। সেবার ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ নির্বাচিত হন ভারতের মানসি চিল্লার।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement