প্রসব পরবর্তী মানসিক সমস্যা কেন হয়?

১৯ আগস্ট ২০১৯, ১৫:১৮

ফিচার ডেস্ক
প্রসব পরবর্তী বিষণ্ণতা নিয়ে কথা বলেছেন ডা. ফাহমিদা ফেরদৌস। ছবি : সংগৃহীত

সন্তান হওয়ার পর অনেকের মধ্যেই বিষণ্ণতা বা মানসিক সমস্যা কাজ করে। এর কারণ কী, এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. ফাহমিদা ফেরদৌস।  বর্তমানে তিনি জেড এইচ সিকদার ওমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মনোরোগ বিদ্যা বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : প্রসবের পর একজন মায়ের বেলায় মানসিক সমস্যা বা বিষণ্ণতা তৈরি হয় কেন?

উত্তর : আসলে প্রসব পরবর্তী বিষণ্ণতা বা পোস্ট নেটাল ডিপ্রেশন, মায়েদের জন্য খুব প্রচলিত। এতে কেবল একটি কারণ জড়িত নয়। যখন বিয়ে হয়, যেকোনো মেয়ে একটি নতুন পরিবেশে যায়। সেই পরিবেশে যাওয়ার পর চারপাশে যে পরিবার-পরিজন রয়েছে, তাদের সহযোগিতা লাগে।  তার যে জীবন সঙ্গী,  তার স্বামী, তার একটি বিশাল সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। দেখা যায়, তার ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জীবনে দ্বন্দ্ব থাকে, তখন সে প্রচণ্ড একটি মানসিক চাপ নিয়ে গর্ভধারণ করে। গর্ভধারণ অবস্থায় আমরা মায়ের সঙ্গে ভালো ব্যবহারের কথা বলি।

পরিবার-পরিজনরা হয়তো আসা করেন, নতুন মা হচ্ছেন, সে আমাদের রান্না করে খাওয়াবেন, আমাদের পরিবেশন করবেন। অনেক সময় শরীর তাকে এ সাহায্যটা করে না। বাধ্য হয়ে করতে হয়। এটা কিন্তু অনেক বড় একটি মানসিক চাপ।

একটা সময় কিন্তু এদেশে ছিল যে বেশিরভাগ মায়েরা মারা যেত সন্তান প্রসব করতে গিয়ে। তাহলে মেয়েটি কিন্তু জীবন ও মরণের মধ্যখানে অবস্থান করে। প্রসব করতে যাবে, এ অবস্থায় কিন্তু সে মারাও যেতে পারে। এ সময় যদি আরো কিছু বিষয় যুক্ত হয়, তখন দেখা যায়, সে অবস্থায় মানসিক চাপটা সে সহ্য করতে পারে না। এক হলো, তার হরমোনের কিছু পরিবর্তন হয়। আরেকটি হলো, পারিপার্শ্বিক চাপ।

আসলে মন নিয়ন্ত্রণ হয়, কিছু রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে, আমরা বলি নিউরোট্রান্সমিটার। প্রসব পরবর্তী যে বিষণ্ণতা হয়ে থাকে বা যেকোনো সময় যে বিষণ্ণতা হয়ে থাকে, এর পেছনে প্রথম যে পদার্থটা রয়েছে, তার নাম হলো সেরোটোনিন। প্রচণ্ড মানসিক চাপ সহ্য করতে না পারার কারণে এই সেরোটোনিনের তারতম্য হয়। কখনো বেশি হয়, কখনো কমে যায়।

আমাদের শরীর চলে কিন্তু একটি নিয়মের মধ্যে। যখন এই ভারসাম্যটা হবে না, তখন প্রসবের পরে যে কোনো মেয়ে বিষণ্ণতায় চলে যায়।

আমাদের জরিপে দেখা গেছে, ৮০ ভাগ মায়ের বেলায়, প্রথম যারা মা হবেন, তাদের মেটারনিটি ব্লু বা নীল সময় বলে একটি কথা রয়েছে। এটি বিষণ্ণতা। তিন থেকে চার দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ দেখা দিবে। দুই সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যাবে। মেটারনিটি ব্লু বা নীল সময়টা যখন অনেকদিন চলতে থাকবে, তখন এটি রূপান্তরিত হবে মেজর ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডার বা গুরুতর বিষণ্ণতায়। এই গুরুতর বিষণ্ণতায় কিন্তু একজন মায়ের চিকিৎসা প্রয়োজন হবে।