Beta

‘মায়া মসনদের প্রতিটা চরিত্র সুপার হিরো’

০৭ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:৫৭

মায়া মসনদের শিল্পী সিফাত, নীপা ও শিলার সঙ্গে পরিচালক সালাহ্‌ উদ্দিন। ছবি : মোহাম্মদ ইব্রাহিম

এস এম সালাহ্‌ উদ্দিনের পরিচালনায় রূপকথার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ধারাবাহিক নাটক ‘মায়া মসনদ’। লিখেছেন অরিন্দম গুহ। নাটকটির পর্ব পরিচালক আতিকুর রহমান বেলাল ও দৃশ্য পরিচালনা করেছেন মাকসুদুল হক ইমু। ভিএফএক্স সুপারভাইজার তানিম শাহরিয়ার। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে রাত ৮টা ২০ মিনিটে প্রতি সপ্তাহের রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার এনটিভিতে নাটকটি প্রচারিত হবে। নাটকটি সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন এস এম সালাহ্‌ উদ্দিন।

এনটিভি অনলাইন : ‘মায়া মসনদ’ নাটকে কী দেখতে পাবেন দর্শক?

এস এম সালাহ্‌ উদ্দিন : মসনদের আভিধানিক অর্থ রাজসিংহাসন। কিন্তু অন্যভাবে দেখতে গেলে মসনদের অর্থ আধিপত্য, কর্তৃত্ব, প্রভাব এবং ক্ষমতা। আর এই অসীম ক্ষমতার লোভ থেকে যেমন আজকের যুগের মানুষ নিজেকে বিরত রাখতে অক্ষম, তেমনই এই কাহিনীর পটভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি মানুষ তথা মনুষ্যতর প্রাণীও আবদ্ধ এই মসনদের মায়ায়। হয়তো এ কারণেই যখন ঈষাণ বাংলার সুলতান আর্সলান তার রাজ্যের দায়িত্বভার ত্যাগ করতে প্রস্তুত হয়, তখন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র আথিয়ার ছলে-বলে-কৌশলে অন্য দুই ভাই দাবির ও ফাহিমের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় সেই মসনদ। কিন্তু সেই মসনদ হাতের মুঠোয় ধরে রাখতে গিয়ে চরম মানসিক দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। এভাবে এগিয়ে যাবে নাটকের গল্প।

এনটিভি অনলাইন : শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

এস এম সালাহ্‌ উদ্দিন : এখন পর্যন্ত নাটকটির ১০৫ পর্ব আমরা করেছি। ভিএফএক্স টেকনোলজিতে যেহেতু আমরা কাজ করছি, তাই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতাও ছিল ভিন্ন রকম। নিজস্ব স্টুডিওতে আমরা শুটিং করছি। নাটকের সেট বানানো নেই। একটা দৃশ্যের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা বলি। নিলয় দৈত্যর সঙ্গে কথা বলবে। আমি টুলের ওপর দাঁড়িয়ে দৈত্য সেজেছি। আমাকে যতবার নিলয় দেখছে, ততবারই সে হাসছে। এনজি শট হয়েছিল অনেক। রাজপ্রাসাদে নাই, কিন্তু ব্যাপারটা এ রকম রাজপ্রাসাদে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে সবাইকে অভিনয় করতে হচ্ছে। কোনো কিছু না দেখে শুধু অনুভব করে শিল্পীদের অভিনয় করতে কষ্ট হয়েছে। এফডিসিতে সেট করে আমরা যুদ্ধের কিছু দৃশ্যের শুটিং করেছি। চারশ জন শিল্পী অভিনয় করেছেন সেদিন। কিন্তু টিভি পর্দায় সেই চারশ জনকে চার লাখ হিসেবে দর্শক দেখবেন। ভিএফএক্স টেকনোলজিতে বিশ্বের সবকিছু এগিয়ে গেছে। বাহুবলীর মতো ছবি নির্মাণ হয়েছে। ছবিটার বাজেট অনেক বেশি ছিল। তাই বাহুবলীর সঙ্গে মায়া মসনদের তুলনা করা যাবে না। পৃথিবীর সবকিছু শুরু থেকে শেখার বিষয়। আমরা মানের দিক থেকে হয়তো উন্নত হব না। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি। আমাদের টিমে ২৬ জন আছেন। যে যার মতো করে আমরা সেরা কাজ দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এনটিভি অনলাইন : কত পর্ব পর্যন্ত আপনাদের টার্গেট?

এস এম সালাহ্‌ উদ্দিন : পাঁচশ পর্ব পর্যন্ত টার্গেট। আর জনপ্রিয়তা পেলে এক হাজার পর্ব ছাড়িয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত এটাই পরিকল্পনা আমাদের।

এনটিভি অনলাইন : ‘মায়া মসনদ’ বানানোর পরিকল্পনা আপনার কখন আসে?

এস এম সালাহ্‌ উদ্দিন : আমরা মূলত বিজ্ঞাপন বানাই। নাটক কখনো করিনি। একদিন বাসায় ফিরে দেখি আমার ছেলে অঙ্ক ‘কিরণমালা’ সিরিয়াল দেখছে। সেখানকার একটি চরিত্র খরগোশের মতো করে কথা বলছিল সে। এ ছাড়া আমার বাসায় ও আত্মীয়স্বজনও বিদেশি চ্যানেল দেখছেন সব সময়। আমরা ১৬ কোটি মানুষ। অথচ আমাদের দেশে কেন সিরিয়াল দর্শক দেখছেন না! এটা আমি ভাবতে শুরু করি। আমরা যেটাকে ভালো ভাবছি, দর্শক সেটা ভালো ভাবছেন না কেন? এসব ভাবতে ভাবতে মায়া মসনদ নাটক বানানোর ভূত আমার মাথায় চেপে বসে। যেকোনো মেলায় একটা বড় টাওয়ার থাকে, সেটা দেখেই মূলত সবাই মেলায় ঢোকে। আমি মনে করলাম, আমার সিরিয়ালে একটা ফ্যান্টাসি থাকুক, যেটা দেখে অন্তত দর্শক টিভি দেখতে শুরু করবেন। একেবারে যে দর্শক টিভিতে নাটক দেখেন না সেটা আমি বলছি না, যাতে বিদেশি চ্যানেলের সিরিয়ালের থেকে আমাদের নাটক দর্শক বেশি দেখেন, সেটাই আমার চাওয়া।

এনটিভি অনলাইন : কোন শ্রেণির দর্শক আপনার নাটকটি দেখবেন বলে আপনি ভাবছেন?

এস এম সালাহ্‌ উদ্দিন : ছোট থেকে শুরু করে সবাই দেখতে পারেন। এটা ফ্যামিলি ড্রামা। যাঁরা রূপকথা পছন্দ করেন, মূলত তাঁদের জন্যই এই নাটক। বিশ্বের সবাই এখন অতীতের গল্প কিংবা ভবিষ্যতের গল্প জানতে চায়, যেটা তাঁদের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হয়। আমি অতীতের একটা গল্প বলতে চেয়েছি। মায়া মসনদের প্রতিটা চরিত্র সুপার হিরো। ঈষাণ বাংলার সুলতানের পরিবার নিয়ে নাটকটি। নাটকে পৃথিবীর মানুষ, নিচের জগৎ ও ওপরে জাতি দেখানো হবে। রাজপ্রাসাদে ষড়যন্ত্র তুলে ধরা হয়েছে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ। এদের ক্ষতি করছে দানবরা। মানুষ, দানব ও পরীর মধ্যে প্রেম ও যুদ্ধও নাটকের গল্পে রয়েছে। আমরা মফস্বল দর্শকদের বেশি টার্গেট করছি। কারণ জাদুবিদ্যা, ভূত তাঁরা খুব সহজে বিশ্বাস করেন। এরই মধ্যে নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়ার বিভিন্ন জায়গায় নাটকটি আমরা দেখিয়েছি। তাঁরা খুব উচ্ছ্বসিত। এই নাটকটি বানানোর আগে আমরা পরীক্ষামূলকভাবে ‘ডালিমকুমার’ ও ‘যুবরাজ’ নাটক দুটি নির্মাণ করেছিলাম। দর্শক ভালোভাবেই নিয়েছিলেন।

এনটিভি অনলাইন : নাটকের কস্টিউম কীভাবে তৈরি করছেন?

এস এম সালাহ্‌ উদ্দিন : চার বছর আগে থেকে আমরা টিম ওয়ার্ক শুরু করি। কাস্টিং টিম, কস্টিউম ও মেকআপ টিম আমরা ভাগ করি। প্রথম দিকে আমেরিকা থেকে কস্টিটম কিনেছি। যারা হলিউডের জন্য পোশাক বানায়, তাদের কাছ থেকে কাপড় কিনেছিলাম। যেকোনো শুটিংয়ের বেঁচে যাওয়া কাপড়গুলো কম দামে কেনার চেষ্টা করেছি আমরা। পরে দেখলাম, দাম অনেক পড়ছে। এরপর ভারত, চায়না ও তুরস্ক থেকে কাপড় কিনেছি। বানানো হচ্ছে এখানেই।

এনটিভি অনলাইন : সোহেল রানা নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন। তাঁকে রাজি করালেন কীভাবে?

এস এম সালাহ্‌ উদ্দিন : কাজটা সহজ ছিল না। সোহেল রানা তো নাটকে অভিনয় করেন না। আমরা তাঁকে অনুরোধ করেছিলাম। পুরো প্রজেক্ট দেখানোর প্রতি তিনি রাজি হয়েছিলেন।

এনটিভি অনলাইন : নাটকটির লেখক কলকাতার অরিন্দম গুহ। সেখানে তিনি খুব জনপ্রিয়। জনপ্রিয়তার কারণে তাঁকে দিয়ে কি নাটক লেখাচ্ছেন?

এস এম সালাহ্‌ উদ্দিন : বিষয়টা সে রকম নয়। অরিন্দম গুহ খুব ভালো বন্ধু আমার। দারুণ চিত্রনাট্য লেখেন। আমি চেয়েছিলাম, নাটকটি একদিন দেখার পর আর একদিন দেখার জন্য দর্শকের স্পৃহা জাগবে, সেই রকম চিত্রনাট্য। অরিন্দম গুহ সেই রকম চিত্রনাট্য লিখতে পারদর্শী।

এনটিভি অনলাইন : শুনলাম, কলকাতায় আপনি ফ্যান্টাসি ড্রামা তৈরি করছেন?

এস এম সালাহ্‌ উদ্দিন : আলিফ-লায়লা সিরিয়াল করার কথার্বাতা চলছে। বলতে পারেন সবকিছু ঠিক। পাঁচজন পরিচালক সিরিয়ালটির কাজ করবেন। আমি পরিচালকদের প্রধান হয়ে কাজ করব।

এনটিভি অনলাইন : শেষ প্রশ্ন। এর মানে আপনি নিয়মিত এ ধরনের কাজ করতে চান?

এস এম সালাহ্‌ উদ্দিন : সফল হলে করতে চাই। এ ছাড়া সিনেমা বানানোর পরিকল্পনাও আমাদের আছে।

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement