প্রথম এক-দুই বছর ঋতুস্রাব অনিয়মিত হতে পারে

শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন আসে কিশোরী বয়সে। এ সময় শরীর ও মন দুটো স্বাস্থ্যের দিকেই খেয়াল রাখা জরুরি।
কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. ফারজানা দীবা।
বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনফার্টিলিটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩৬০৭তম পর্বে সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়।
প্রশ্ন : কিশোরী বলতে কোন বয়সের মেয়েদের বোঝানো হচ্ছে?
উত্তর : কিশোরী হলো বয়ঃসন্ধিকাল। শিশু থেকে যুবতীতে রূপান্তর হওয়ার মাঝখানের সময়টা। একে আমরা আসলে কিশোরী বলি। ভীষণ স্পর্শকাতর একটি সময়। শারীরিক বৃদ্ধি যেমন হয়, মানসিক বৃদ্ধিও তেমনভাবে হয়। বিশাল মানসিক পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তনের সময় অনেক ঘটনা, দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাচ্চা থেকে যখন হঠাৎ করে বড় হয়ে যাচ্ছে, এটা নিজের কাছে গ্রহণ করা যেমন কষ্টকর, আশপাশের মানুষের কাছেও কষ্টকর হয়ে যায়।
প্রশ্ন : এই কিশোরীটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোন কোন বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?
উত্তর : শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি যেমন মাথায় রাখতে হবে, সেইসঙ্গে মানসিক বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের ধরন, জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করতে হবে; ব্যায়াম করতে হবে। এই সময়টা যেমন পড়াশোনার জন্য জরুরি, তেমনি মানসিক বিনোদনও জরুরি।
প্রশ্ন : এ সময়ই সাধারণত মেয়েদের ঋতুস্রাব শুরু হয়ে যায়। সে হয়তো এ সময় অন্যের সঙ্গে সহজভাবে মিশতে পারে না। এ ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?
উত্তর : একটা সময় ছিল, এ বিষয়টি নিয়ে মেয়েরা মা-বাবার সঙ্গে আলোচনা করতে পারত না। তবে এখন কিন্তু পাঠ্যপুস্তকের মধ্যেও বিষয়টি রাখা হয়। এই সঙ্গে মা-বাবার মধ্যে ইতিবাচক কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। শারীরিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মা-বাবাও কিন্তু সন্তানের সঙ্গে কথা বলছে। আগে কিন্তু স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়ে কথা বলতে অনেকেই লজ্জাবোধ করত। এখন বলতে কিছুটা সহজ হচ্ছে। এখন মিডিয়ায় অ্যাডগুলোতেও দেখা যায়, এ বিষয়ে বলছে। তাই সচেতনতা তৈরি হয়েছে। তবুও কিশোরী বাচ্চাদের সঙ্গে মা-বাবার সম্পর্ক যেন ভালো হয়, সেদিকে জোর দিতে হবে। কারণ, শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি, মানসিক পরিবর্তনের বিষয়টি মায়ের সঙ্গে একজন কিশোরী যতটুকু আলোচনা করতে পারবে, বাইরের মানুষের সঙ্গে পারবে না। আর আলোচনা করলেও মায়ের মাধ্যমে যতটা সহজভাবে উত্তর পাবে অন্য কারো কাছ থেকে অতটা পাবে না।
প্রশ্ন : অনেক সময় ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে সবাই হয়তো দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। এ বিষয়ে আপনার পরামর্শ কী?
উত্তর : এ সমস্যা নিয়ে কিন্তু আমাদের চেম্বারে আসে। একটু বলি, ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার প্রথম এক-দুই বছর একটু অনিয়মিত হতে পারে। কারণ, এটি শারীরিক পরিবর্তন। একটি শিশু থেকে বয়ঃসন্ধিকালে আসতে কিন্তু কিছু হরমোনের পরিবর্তন হয়। এই হরমোনের পরিবর্তনের কারণে কিন্তু ঋতুস্রাব শুরু হয়। এই হরমোনটা শরীরের সঙ্গে সমন্বয় হতে, এক থেকে দুই বছর সময় লাগে। এই সময়টাতে এমন হতে পারে যে মাসে দুবার হতে পারে। অথবা দুই থেকে তিন মাস না হয়েও হতে পারে। অথবা একবার শুরু হলে হয়তো কিছুদিন বেশি চলতে পারে। এটা হতেই পারে। এসব নিয়ে এত চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।
এ ক্ষেত্রে মেয়েটিকে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখতে হবে। ওজন যেমন বাড়ানো যাবে না, তেমনি ওজন একেবারে কম হলেও চলবে না। আগে ওজন কম ছিল, এখন ওজন বেশি বেশি দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে হরমোনাল পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পিসিওস রোগটি দেখা দেয়। পিসিওস রোগটি শুরু কিশোরী বয়স থেকে। তাই আমাদের তখন থেকেই সাবধান হতে হবে।
বয়ঃসন্ধিকালে হঠাৎ করে যদি একটি মেয়ে মুটিয়ে যায়, ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।