হার্ট ফেইলিউর কী?

হার্ট ফেইলিউর বা হৃদযন্ত্র অকার্যকর হয়ে যাওয়া একটি জটিল সমস্যা। এটি থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩০৮৬তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. সেলিম মাহমুদ। বর্তমানে তিনি ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের পরামর্শক হিসেবে কর্মরত।
প্রশ্ন : হার্ট ফেইলিউর কাকে বলে?
উত্তর : সাধারণত বিভিন্ন রকম হার্টের রোগ যখন অগ্রবর্তী পর্যায়ে চলে যায়, তখন হার্ট ফেইলিউর তৈরি হয়। যেমন একিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফেকশনের পরে হার্টের মাংসপেশিগুলো যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, যাদের হার্টের পাম্পিং একশন কমে যায়, ৪০ ভাগের নিচে নেমে যায়, তখন রোগীর বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন রোগীর শ্বাসকষ্ট হয়, পায়ে পানি আসে, পেটে পানি আসে, রোগী রাতের বেলা শুতে পারে না। শুলেই তার ফুসফুসে পানি জমে যায়। একে আমরা বলি পারকসিজনাল নকটারনাল ডিসনিয়া। এই রোগীগুলোকে আমরা ক্লাসিফাই করি হার্ট ফেইলিউর হিসেবে। শুধু যে হার্ট অ্যাটাকের পরে হার্ট ফেইলিউর বাড়ে তা নয়, রোগীর যদি ভাল্ভে সমস্যা থাকে, হার্টের মধ্যে জন্মগতভাবে কোনো ফুটা থাকে, অথবা ভাইরাল ইনফেকশনের পরে রোগীদের হার্টের পাম্পিং একশন দুর্বল হয়ে যেতে পারে। একে আমরা বলি ডায়লেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি। এরপর অনেক সময় গর্ভাবস্থা, ও গর্ভাবস্থার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে, নারীদের হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যেতে পারে। তাদেরও এ রকম ডায়লেটেড কার্ডিওময়োপ্যাথি তৈরি হয়। একে আমরা বলি প্যারিপারটাম কার্ডিওমায়োপ্যাথি। সে ক্ষেত্রেও তাদের হার্টের পাম্পিং খুব কমে যায়। গর্ভাবস্থায় ও সন্তান জন্মদানের ছয় মাসের মধ্যেও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই ডায়ালেটেট কার্ডিওমায়োপ্যাথি, পেরিপাটাম কার্ডিওমায়োপ্যাথি, ভাল্ভুলার কার্ডিওমায়োপ্যাথি, যাদের ভাল্ভের সমস্যা থাকে- এ রকম বিভিন্ন কারণে হার্ট ফেইলিউর হতে পারে।