হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ কী?

হার্ট ফেইলিউর একটি জটিল সমস্যা। এটি কখনো ধীরগতিতে হয়, আবার কখনো হঠাৎ করে হয়ে যায়। হার্ট ফেইলিউরের বিভিন্ন লক্ষণের বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩৪০৮তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. শফিকুর রহমান পাটওয়ারী।
র্ব্তমানে তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
প্রশ্ন : হার্ট ফেইলিউর কি ধীরে ধীরে হয়, নাকি হঠাৎ হয়? এ ধরনের সমস্যা হলে কী লক্ষণ প্রকাশ পাবে?
উত্তর : হঠাৎ করে কখন হয়? কোনো মানুষের যদি বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাক হয়, তখন দেখা যায় হার্টের মাংসপেশির বিরাট একটি অংশ কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। সে ক্ষেত্রে হঠাৎ করে হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা কমে যাবে। তখন তার হার্ট ফেইলিউর তৈরি হবে। যেমন দেখা যাচ্ছে বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাকে হার্ট ফেইলিউর হয়। হার্ট ফেইলিউর হলে হঠাৎ করে দেখা যায় ফুসফুসে পানি জমে যায়, শুয়ে থাকতে পারে না, উঠে বসে থাকে। মুখ দিয়ে কফের মতো আসতে থাকে। এই ধরনের একটি পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়। তখন এসব রোগীকে ভর্তি করাতে হয়, অক্সিজেন দিতে হয়, কিছু ওষুধ দিয়ে তার ফুসফুস থেকে পানি বের করার চেষ্টা করা হয়। হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা করা হয়। হার্টের যে রক্তনালিটা ব্লক রয়েছে, সেটি এনজিওপ্লাস্টি বা কিছু ওষুধের মাধ্যমে ছুটিয়ে দিলে দেখা যায় আবার হার্টের কার্যক্রম ফিরে আসে। তখন সেই ব্যক্তি মোটামুটি ঠিক হয়ে যায়।
আরেকটি রয়েছে ক্রনিক। এটি আস্তে আস্তে হয়। যেমন দেখা গেল হার্টের রক্তনালিতে ব্লক খুব ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দেখা যায়, আস্তে আস্তে পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আস্তে আস্তে পেশিগুলো নষ্ট হতে থাকে। সে ক্ষেত্রে হঠাৎ করে কিন্তু কোনো সমস্যা হবে না, ধীরে ধীরে সমস্যা হবে। যেমন : রোগী হয়তো বলবে, আমি আগে পাঁচতলায় উঠতে পারতাম। এখন দুইতলায় উঠলেই আমার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। আমি আগে দুই মাইল হাঁটতে পারতাম। এখন আধা মাইল হাঁটলেই আমার শ্বাসকষ্ট হয়। রাতের বেলা শুয়ে থাকলে দেখা যায়, হঠাৎ করে ঘুম থেকে উঠে যাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি হতে পারে। তখন ইকো করলে দেখা যায় হার্টের কার্যক্রম কমে গেছে। এই রোগীদের ধীরে ধীরে হার্ট ফেইলিউর হচ্ছে। একে আমরা ইসকেমিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি বলি। অথবা হার্টের ভাল্ভ অথবা এরিদমিয়া বিভিন্ন কারণে দেখা গেল ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও ধীরে ধীরে হার্ট ফেইলিউর হতে পারে। একে আমরা ক্রনিক হার্ট ফেইলিউর বলি।