Beta

ত্বকে দাগ কেন হয়?

২৮ জুন ২০১৯, ১৬:৩০

ফিচার ডেস্ক
ত্বকের দাগের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন ডা. মেহরান হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

ত্বকের দাগ একটি প্রচলিত সমস্যা। ত্বকের দাগ কেন হয়, এ বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩৪৭০তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. মেহরান হোসেন।

বর্তমানে তিনি ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : ত্বকে কী কী ধরনের দাগ দেখা যায়?

উত্তর : দাগজনিত সমস্যাকে আমরা দুটি ভাগে ভাগ করি। একটি হলো হাইপোপিগমেন্টেড। স্বাভাবিক ত্বকের যে রং তার চেয়ে গাঢ় বা লালচে হয়ে যায়। এ ছাড়া অনেক রকম দাগ থাকতে পারে। কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের জন্য দাগ, একজিমার দাগ, ফাটা দাগ বা বলিরেখা। তবে মূলত আমরা দাগগুলোকে দুটো প্রকারভেদে ভাগ করি।

প্রশ্ন : হাইপোপিগমেন্টেশন কী কী কারণে হয়?

উত্তর : হাইপোপিগমেন্টের কারণকেও আমরা দুটো ভাগে ভাগ করি। একটি হলো, হেরিডিটারি বা জিনগত। আরেকটি হলো অ্যাকোয়ার্ড। মানে যেটি বিভিন্ন কারণে হয়। হেরিডিটি বা জেনেটিকের মধ্যে খুব প্রচলিত হলো অ্যালবিনিজম বা ভিটিলিগো। একে আমরা শ্বেতীরোগ বলি। এ ছাড়া অনেক রোগ রয়েছে। ত্বকে শ্বেতীর মতো সাদা দাগ হয়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া রয়েছে অ্যাকোয়ার্ড। এর মানে হলো, অন্যান্য সেকেন্ডারি কারণের জন্য যেগুলো হয়। এ রকম একটি উদাহরণ হচ্ছে পিউটারেসিস অ্যালবা। এটি অ্যালার্জিজনিত কারণ। তবে ছোপ ছোপ সাদা দাগ হয়। এ ছাড়া ফাঙ্গাসের কারণে হতে পারে। যেমন, ছুলি যাকে বলি। যেমন, পোস্ট ইনফ্লামেটোরি হাইপোপিগমেন্টেশন। একটি জায়গায় ব্রণ হলো, সেটি শুকিয়ে বা সেরে গেলে ওই জায়গাটা সাদা হয়ে যায়। এগুলো কিছু প্রচলিত কারণ।

প্রশ্ন : কোন কারণে হাইপোপিগমেন্টেশন হচ্ছে, সেটি কি বোঝা যায়?

উত্তর : এটি বোঝা যায়। এ ক্ষেত্রে প্রথমে রোগীর ইতিহাস শুনতে হবে। অ্যালাবা যেটি বললাম। এই কথাটার মানেই হচ্ছে সাদা। পিউটারিসিস অ্যালবা যেই রোগটি সেটি সাধারণত অ্যালার্জির সঙ্গে সম্পর্কিত। রোগীকে যদি জিজ্ঞেস করি ঘন ঘন ঠাণ্ডা লাগে কি না বা অ্যালার্জি হয় কি না, উত্তর হ্যাঁ হলে আমরা ধরে নেব অ্যালবা।

এ ছাড়া পোস্ট ইনফ্লেমেটোরি হাইপোপিগমেন্টেশন যেটি, এতে রোগীর ব্রণ বা একজিমার ইতিহাস থাকবে। এভাবে আমরা কারণগুলো নির্ণয় করতে পারি। ফাঙ্গাল হলে দেখব কিছু স্কেল বা মরা চামড়া ওঠে সেখান থেকে। তবে দাগ নির্ণয়ের জন্য যে পরীক্ষাটা আমরা করে থাকি, একে আমরা সাধারণত বলি ওডস ল্যাম্প এক্সামিনেশন। এটি একটি অন্ধকার ঘরে করা হয়। একটি সাদা আলো দেওয়া হয়। এক একটি রোগের জন্য এক এক ধরনের রং পরিবর্তন হয়। এটি দেখে আমরা একেবারে নিশ্চিত হতে পারি।

এক একটি রোগের জন্য এক এক ধরনের রং পরিবর্তন হয়। কোনোটার জন্য কমলা হয়, কোনোটার জন্য সবুজ হয়, কোনোটার জন্য লাল হয়।  

প্রশ্ন : হাইপার পিগমেন্টেশন কেন হয়?

উত্তর : হাইপার পিগমেন্টেশনের কারণকে আমরা সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করি। অ্যাকোয়ারর্ড ও কনজেনিটাল। জিনগত কিছু ত্রুটির কারণে কনজেনিটাল হতে পারে। এ ছাড়া অ্যাকোয়ার্ড হয়। বাংলাদেশের মানুষের ত্বকের যে ধরন, এখানে হাইপার পিগমেন্টেশনটাই বেশি।

সূর্যের আলো থেকে যেটি হয়, সেটি হলো মেলানোডার্মা। বা সূর্যের আলো ত্বকের যেসব অংশে পড়ে, সেগুলো কালো হয়ে যায়। খুব প্রচলিতভাবে আমরা বলি মেছতা বা মেলাজমা। এটি বিভিন্ন কারণে হয়। সূর্যালোকের জন্য হয়। তাপ থেকে হতে পারে। অথবা বিভিন্ন ওষুধ থেকে, ওরাল কনট্রাসেপটিভ পিল থেকে হয়। গর্ভাবস্থায়ও অনেক সময় হয়।

Advertisement