Beta

নবজাতকের জন্ডিস কেন হয়?

০১ আগস্ট ২০১৮, ১৭:১৬

ফিচার ডেস্ক

নবজাতকের জন্ডিস একটি প্রচলিত সমস্যা। নবজাতকের জন্ডিসের বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ৩১৫৮তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. নাজমুন নাহার। বর্তমানে তিনি বিআরবি হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের ইউনিট প্রধান হিসেবে কর্মরত।

প্রশ্ন : নবজাতকের জন্ডিস বলতে আমরা কী বুঝি?

উত্তর : নবজাতকের জন্ডিস বলতে সাধারণত বুঝি, তার চোখ হলুদ হয়ে যাবে। সম্পূর্ণ শরীর হলুদ হয়ে যাবে। হলুদ বর্ণ ধারণ করার একটি কারণ হচ্ছে, শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার একটি উপাদান থাকে, যার নাম হচ্ছে বিলুরুবিন, এই বিলিরুবিনের মাত্রা যখন বাড়ে, উৎপাদন যখন বেড়ে যায় অপাসারণের তুলনায়,  তখনই হলো রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়। আর বাচ্চার শরীরে জন্ডিস দেখা যায়। তখন আমরা একে নবজাতকের জন্ডিস বলি।

প্রশ্ন : নবজাতকের জন্ডিস কী কী ধরনের হয়?

উত্তর : নবজাতকের সাধারণত দুই ধরনের জন্ডিসের কথা আমরা বলি। এর মধ্যে একটি হলো সাধারণ জন্ডিস। একে ফিজিওলজিক্যাল জন্ডিস বলা হয়। এটি সাধারণ জন্ডিস। আরেক ধরনের জন্ডিস হয়, এটি প্যাথোলজিক্যাল জন্ডিস। অথবা মারাত্মক জন্ডিস বলা হয়।

প্রশ্ন : সাধারণ জন্ডিস কী?

উত্তর : শতকরা ৬০ ভাগ পরিণত শিশু ও শতকরা ৮০ ভাগ অপরিণত শিশুর জন্মের পর পর জন্ডিস হয়। কারণ হিসেবে দেখা যায়, নবজাতকের লিভার অপরিপক্ক থাকে। এবং নবজাতকের সময়কাল একটু স্বল্প থাকে। এই লোহিত রক্ত কণিকার আকার একটু বেশি থাকে। এই জন্য বিলিরুবিন উৎপাদন বেশি হয়। লিভার অপরিপক্ক থাকার কারণে, একে শরীর থেকে বের করতে পারে না। এই জন্য নবজাতকের সাধারণ জন্ডিস হয়ে থাকে।

প্রশ্ন : এই সাধারণ জন্ডিস হয়ে থাকলে করণীয় কী?

উত্তর : সাধারণ জন্ডিসটা দুই থেতে তিন দিনের দিন আসবে। এটা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে। এরপর নিজে থেকেই এটা কমে আসবে। পাঁচ থেকে ছয় দিন পর্যন্ত এটি বাড়তে থাকবে। পরে নিজে থেকেই এটা কমে আসবে। ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে এটি ভালো হয়ে যায়। তবে কোনো কোনো কারণে এটি বেড়ে যেতে পারে। যেমন নবজাতক যদি খাবার ঠিকমতো না পায়, কিংবা নবজাতকের যদি স্বল্প ওজন হয়ে থাকে, অপরিণত হয়ে থাকে, তাহলে এটা সাধারণত একটু বেড়ে যায়। সেই ক্ষেত্রে যেটি করতে হবে খাবার খুব ঘন ঘন দিতে হবে তাকে। মায়ের বুকের দুধ তাকে ঘন ঘন খাওয়াতে হবে। এ ছাড়া যদি জন্ডিস বাড়তে থাকে, তাহলে ক্রমশই বাড়বে। কম জন্ডিসে প্রথমে মুখ হলুদ হবে, এরপর যত বাড়তে থাকবে, বুকে নামবে, পেটে নামবে, পায়ে নামবে। হাতের তালু, পায়ের তালু পর্যন্ত চলে যেতে পারে। সেসব ক্ষেত্রে জন্ডিসের মাত্রা নিরূপণ করার প্রয়োজন হয়। এই ক্ষেত্রে পরীক্ষা- নিরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়।

পরীক্ষা করে যদি দেখা যায় এটি বিপদ মাত্রার নিচে থাকে, তাহলে আমরা সাধারণত বুকের দুধ খাওয়াতে বলি। বুকের দুধ হলো তার একমাত্র চিকিৎসা। আর যদি ফটোথেরাপি লেভেলে চলে যায়, তাহলে তাকে আলোর নিচে রেখে চিকিৎসা করতে হবে।       

ইউটিউবে এনটিভির জনপ্রিয় সব নাটক দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Advertisement