Beta

হাঁটু মচকে গেলে করণীয়

১৫ এপ্রিল ২০১৮, ১০:০৯

ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল
মচকে গেলে হাঁটুকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে। ছবি : সংগৃহীত

হাঁটু এমন একটি জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ জয়েন্ট, যা বসতে, দাঁড়াতে, হাঁটতে, দৌড়াতে, ওপরে উঠতে ও নামতে একান্ত প্রয়োজন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের কাজ করতে গিয়েই হাঁটু মচকায়।

শরীরের ওজন বহনকারী জয়েন্টগুলোর মধ্যে হাঁটু অন্যতম। এটি তিনটি হাড়ের সমন্বয়ে গঠিত। হাঁটুতে চারটি প্রধান লিগামেন্ট ও দুটি মেনিসকাসে থাকে।

লিগামেন্ট হলো ইলাস্টিক টিস্যু, যা একটি হাড়কে অন্য হাড়ের সঙ্গে যুক্ত করে। জয়েন্টে শক্তি প্রদান করে, হাড়ের নড়াচড়ায় অংশগ্রহণ করে এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।

আর মেনিসকাস শরীরের ওজন সমভাবে ঊরুর হাড় থেকে পায়ের হাড়ে সরবরাহ করে। হাড়ের প্রয়োজনীয় নড়াচড়ায় সহায়তা করে এবং জয়েন্টে দৃঢ় অবস্থা বজায় রাখে।

হাঁটু মচকে গেলে হাঁটুর লিগামেন্ট ও মেনিসকাস ইনজুরি হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে লিগামেন্ট বিকৃতি হতে পারে কিংবা আংশিক বা সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যেতে পারে। মেনিসকাসেও বিভিন্ন ইনজুরি হয়। মেনিসকাসে আংশিক বা সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যেতে পারে। ৭০ শতাংশ মোচড়ের জগতে এনটোরিওর ক্রুসিয়েট লিগামেন্টের সঙ্গে মেনিসকাস ইনজুরি থাকে।

কারণ

  • হঠাৎ হাঁটু মোচড় খেলে
  • রিকশা থেকে পড়ে গেলে
  • গাড়ি বা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা
  • খেলাধুলা করার সময়, যেমন—ফুটবল, বাস্কেটবল, হকি ও কাবাডি খেলা
  • মই থেকে পড়ে গেলে
  • গাড়ি থেকে পড়ে গেলে
  • সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় এক ধাপ ভুল করলে
  • হাঁটুর বাইরের দিকে সরাসরি আঘাত লাগলে

উপসর্গ

  • প্রথমে তীব্র ব্যথা হওয়া, পরে ধীরে ধীরে ব্যথা কমে যাওয়া।
  • ব্যথা হাঁটুর বাইরের পাশে ও পেছনে অনুভূত হওয়া
  • হাঁটু ভাঁজ বা সোজা করতে গেলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া
  • আঘাত পাওয়ার প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যে হাঁটু ফুলে যাওয়া
  • ফোলা ও ব্যথার জন্য হাঁটু নাড়াতে না পারা
  • দাঁড়ানো বা হাঁটতে চেষ্টা করলে হাঁটু বেঁকে যাচ্ছে মনে হওয়া
  • হাঁটু অস্থিতিশীল বা ঘুরে যাচ্ছে মনে হওয়া

কী করবেন

  • হাঁটুকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে।
  • জায়গাটিতে ঠান্ডা সেঁক দেবেন। একটি কাপড়ে বরফের টুকরো দিয়ে অথবা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি দিয়ে ব্যথা ও ফোলার জায়গায় চেপে রাখুন, এতে ব্যথা ও ফোলা কমে যাবে। প্রতি ঘণ্টায় ১০ মিনিট বা দুই ঘণ্টা পর পর ২০ মিনিট অনবরত লাগাবেন। তবে ঠান্ডা অবশ্যই সহ্যের মধ্যে হতে হবে। এই পদ্ধতি আঘাতের ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত চলবে।
  • হাঁটুতে ইনসটো কমপ্রেশন বা স্লিন্ট ব্যবহার করলে ব্যথা ও ফোলা কমে যাবে।
  • হাঁটুর নিচে বালিশ দিয়ে হাঁটুকে হৃৎপিণ্ডের সমরেখা থেকে উঁচুতে রাখবেন। এতে ফোলা কমবে।
  • এরপর রোগীকে অর্থোপেডিকের সার্জনের কাছে পাঠাবেন। এমন একজনের কাছে পাঠাবেন হাঁটুর লিগামেন্ট ইরজুরির চিকিৎসা করতে সক্ষম।   

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমাটোলজি বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

Advertisement